কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা আদি-নব্য বা ক্ষমতার লড়াই এবার চরম আকার ধারণ করল। সুস্মিতা দেবের ইস্তফার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার জোড়াফুল শিবিরের সংকট আরও বাড়িয়ে দিলেন যাদবপুরের লোকসভা সাংসদ সায়নী ঘোষ। দলীয় সূত্রের খবর, সম্প্রতি দলের মহিলা উইংয়ের সভানেত্রী হওয়া সায়নী এবার সরাসরি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যেই কাকলিদেবীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্রোহী শিবিরে নিজের সমর্থনের নথিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। (Sayani Ghosh joins rebel camp)
‘দল পাশে দাঁড়ায়নি’, ক্ষোভ উগরে দিলেন সায়নী
তৃণমূলের অন্দরের খবর, সায়নী ঘোষ বেশ কিছুদিন ধরেই নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে দাবি, নির্বাচন প্রচারের সময় যখন তিনি বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন, তখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে কোনওরকম সহযোগিতা বা সমর্থন পাননি। সেই কঠিন সময়ে নিজেকে অত্যন্ত অসহায় ও একা মনে করেছিলেন সায়নী। এখানেই শেষ নয়, তাঁকে মাঝপথেই নির্বাচনী প্রচার গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই সমস্ত পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই অবশেষে দলনেত্রীর ওপর আস্থা হারিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের হাত ধরলেন তিনি।
গতি পাচ্ছে বিদ্রোহ, দিল্লিতেও স্বস্তি নেই মমতার
বুধবার দিনটাই তৃণমূলের জন্য ছিল চরম বিপর্যয়ের। দুপুরে ঠিক ১টা নাগাদ রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণণের কাছে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন সুস্মিতা দেব। সুখেন্দুশেখর রায়ের পর সুস্মিতার এই চলে যাওয়া সংসদের উচ্চকক্ষে তৃণমূলকে কোণঠাসা করে দিয়েছিল। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সায়নী ঘোষের এই বিদ্রোহ দলের লোকসভা সংসদীয় দলকেও বড়সড় ধাক্কা দিল।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি অনুযায়ী, তৃণমূলের অন্তত ২০ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই দিল্লিতে এনডিএ (NDA) শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পাল্লা সায়নী যোগ দেওয়ায় আরও ভারী হলো। একের পর এক সাংসদের এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ এবং দলত্যাগ স্বভাবতই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিল।



















