কলকাতা: রাজ্যে পালাবদল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই একের পর এক চমক (Rathin Ghosh)। চমকের ধাক্কায় ভেঙে টুকরো হয়েছে তৃণমূল। দলের অন্দরেই দু ভাগে বিভক্ত বিধায়ক-সাংসদরা। এই আবহেই ফের দলবদলের জল্পনা উস্কে শুভেন্দু সাক্ষাতে মধ্যগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ।
সূত্রের খবর, বিমানবন্দরের কাছের একটি হোটেলে শুভেন্দু অধিকারী ও রথীন ঘোষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধরে আলোচনা হয়। বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলেননি। তবে এই সাক্ষাতের খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে অস্থিরতার খবর বারবার উঠে আসছে, তার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
আরও দেখুনঃ সীমান্তে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা বলয়, অনুপ্রবেশ রুখতে দেশীয় প্রযুক্তির অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। বিজেপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে তাঁর একাধিক বৈঠকের খবর সামনে এসেছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষের নাম।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এটি শুভেন্দু অধিকারী ও রথীন ঘোষের প্রথম সাক্ষাৎ নয়। এর আগেও জুন মাসের শুরুতে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে রথীন ঘোষকে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় বিরোধীরা দলবদলের জল্পনা উস্কে দিলেও রথীন ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, তিনি শুধুমাত্র নিজের বিধানসভা এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, এলাকার বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করতেই তিনি প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগ রাখছেন।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের ধারাবাহিক বৈঠককে শুধুমাত্র প্রশাসনিক যোগাযোগ বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন। কারণ নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের একাধিক নেতা, বিধায়ক ও সাংসদদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। দলের ভেতরে মতপার্থক্য এবং নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষের খবরও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। ফলে রথীন ঘোষের এই সাক্ষাৎ সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।




















