সিআইডির নোটিস সংক্রান্ত মামলায় এফআইআর খারিজের আবেদন এবং তদন্তমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) । বুধবার মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও আজ শুনানি সম্ভব হয়নি। বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মামলাটি শোনার চেষ্টা করা হবে।
বুধবার আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি ভিত্তিতে শুনানি প্রয়োজন। আদালতে তিনি দাবি করেন, সিআইডি বারবার নোটিস পাঠিয়ে এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রীতিমতো ‘হ্যারাস’ বা হয়রানি করছে। সেই কারণেই মামলাটির দ্রুত শুনানি প্রয়োজন বলে তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানান। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, এর আগেও ভ্যাকেশন বেঞ্চে এই মামলাটি উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের সময়াভাবে সেই সময় মামলার শুনানি সম্ভব হয়নি। তখন সংশ্লিষ্ট বিচারপতি ১০ জুন মামলাটি শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছিলেন। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার বিষয়টি আদালতের সামনে তোলা হয়।
তবে বিচারপতি কৌশিক চন্দ স্পষ্ট করে দেন যে, এদিন মামলার শুনানি নেওয়া সম্ভব নয়।(Abhishek Banerjee) তিনি জানান, মামলায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যাঁরা সাধারণত সওয়াল করেন, তাঁদের অধিকাংশই এদিন উপস্থিত নেই বা মামলায় অংশ নিতে পারবেন না। ফলে রাজ্যের বক্তব্য না শুনে এই পর্যায়ে মামলার শুনানি করা সমীচীন হবে না বলে আদালত মনে করছে। এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি প্রথমেই রাজ্য সরকারকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের মতে, মামলার পরবর্তী শুনানির আগে রাজ্যের অবস্থান জানা প্রয়োজন। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নোটিস জারি করে আদালত বৃহস্পতিবার মামলাটি শোনার সম্ভাবনার কথা জানায়।
মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিআইডির নোটিস জারি এবং তার প্রেক্ষিতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘটনাকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে। অন্যদিকে, অভিষেকের আইনজীবীরা দাবি করছেন, তদন্তের নামে অযথা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও সিআইডি বা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এদিন আদালতে কোনও বিস্তারিত বক্তব্য পেশ করা হয়নি। ফলে মামলার মূল বিষয়বস্তু এবং তদন্তকারী সংস্থার অবস্থান সম্পর্কে আদালত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু শোনেনি। বৃহস্পতিবার মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে রাজ্যের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জবাব দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন নজর বৃহস্পতিবারের দিকে। সেদিন আদালত মামলাটি গ্রহণ করলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এফআইআর খারিজের আবেদন এবং রক্ষাকবচ চাওয়ার আর্জি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি আলোচনা হতে পারে। একইসঙ্গে সিআইডির তদন্ত প্রক্রিয়া এবং নোটিস জারির বৈধতা নিয়েও আদালতে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।



















