রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসছে। কখনও সরকারি ত্রাণের সামগ্রী যেমন বালতি, ত্রিপল বা বিভিন্ন প্রকল্পের উপকরণ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে, আবার কখনও হুমকি, তোলাবাজি ও প্রভাব খাটানোর মতো অভিযোগে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক ঘটনায় কয়েকজন তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তারও হয়েছেন। এবার সেই তালিকায় নতুন করে নাম জড়াল ইংরেজবাজারের তৃণমূল নেতা মারুফ শেখের।(Cough Syrup)
মারুফ শেখ ইংরেজবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এবার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কাফ সিরাপ পাচারের। অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত ওষুধ বিদেশে পাচারের একটি বড় চক্রের সঙ্গে তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। (Cough Syrup)এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে মহদিপুর সীমান্ত এলাকায় এই পাচারচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়। গোপন সূত্রে আগেই খবর পেয়ে সীমান্তে কড়া নজরদারি শুরু করে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF) এবং কাস্টমস বিভাগ। যৌথ অভিযানে একটি পাথরবোঝাই লরিকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে সন্দেহ হওয়ায় লরিটি তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশি চালাতেই লরির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ কাফ সিরাপের বোতল। মোট ২২ হাজার ৮০০ বোতল কাফ সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই সিরাপগুলো পাথরের চালানের আড়ালে লুকিয়ে বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল।
প্রাথমিক হিসাব (Cough Syrup) অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া কাফ সিরাপের বাজারমূল্য কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। ফলে এটি শুধু একটি সাধারণ পাচারচেষ্টা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত বড় চক্রের অংশ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অবৈধ ওষুধ পাচারের অভিযোগও অতীতে সামনে এসেছে।
ঘটনায় ইতিমধ্যেই (Cough Syrup)একজন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনও চক্র সক্রিয় রয়েছে, যেখানে স্থানীয় স্তরের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ থাকতে পারে।
যদিও এই অভিযোগ নিয়ে মারুফ শেখ বা তাঁর পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।



