হকারদের পাশে মমতা, উচ্ছেদ নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি

ধর্মতলা আজ পরিণত হল এক প্রতিবাদ ও সংহতির মঞ্চে। হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে রাজপথে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) । এই…

Mamata Takes to the Streets Against Hawker Removal Policy

ধর্মতলা আজ পরিণত হল এক প্রতিবাদ ও সংহতির মঞ্চে। হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে রাজপথে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) । এই কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করে দলীয় কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের। শহরের ব্যস্ততম এই এলাকা কার্যত পরিণত হয় রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তার কেন্দ্রবিন্দুতে।

হকারদের উচ্ছেদ ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। শহরের সৌন্দর্যায়ন, যান চলাচল ও নাগরিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে প্রশাসনের তরফে একাধিক জায়গায় হকার উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে হকারদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, বহু বছর ধরে এই পেশার ওপর নির্ভর করেই তাঁদের জীবিকা চলে আসছে, হঠাৎ করে উচ্ছেদ হলে তাঁদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

   

এই পরিস্থিতিতে হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক অবস্থান নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee) । ধর্মতলায় আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, কোনওভাবেই হকারদের জীবিকা কেড়ে নেওয়া যাবে না। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, শহরের উন্নয়ন যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি সাধারণ মানুষের রুটিরুজির সুরক্ষা। তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা। তাঁদের মধ্যে কুণাল ঘোষ, দোলা সেন এবং বৈশালী চট্টোপাধ্যায় উল্লেখযোগ্যভাবে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সকলেই হকারদের স্বার্থ রক্ষার পক্ষে সওয়াল করেন এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের নীতিগত সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।(Mamata Banerjee)

কুণাল ঘোষ তাঁর বক্তব্যে বলেন, শহরের অর্থনীতিতে হকারদের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। বহু মানুষ এই পেশার সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁদের জীবিকা রক্ষাই এখন মূল বিষয়। দোলা সেন বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন, শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দিয়ে সবকিছু বিচার করা ঠিক নয়। বৈশালী চট্টোপাধ্যায়ও হকারদের পুনর্বাসনের দাবি জানান এবং বলেন, উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানবিকতার ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা হাতে ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে হকারদের সমর্থনে স্লোগান দেন। “হকারদের অধিকার রক্ষা করো”, “জীবিকা বাঁচাও, উচ্ছেদ বন্ধ করো” এই ধরনের নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ধর্মতলা চত্বর। পুলিশ প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।