অরণ্য সপ্তাহে শিলিগুড়িতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি! পরিবেশ রক্ষায় বার্তা শংকর ঘোষের

শিলিগুড়ি: পরিবেশ রক্ষা এবং সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার বার্তা নিয়ে অরণ্য সপ্তাহ (tree plantation)উপলক্ষে শিলিগুড়িতে আয়োজিত হল বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। রবিবার বৈকুণ্ঠপুর বনবিভাগের উদ্যোগে শিলিগুড়ি…

siliguri-tree-plantation-programme

শিলিগুড়ি: পরিবেশ রক্ষা এবং সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার বার্তা নিয়ে অরণ্য সপ্তাহ (tree plantation)উপলক্ষে শিলিগুড়িতে আয়োজিত হল বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। রবিবার বৈকুণ্ঠপুর বনবিভাগের উদ্যোগে শিলিগুড়ি উচ্চতর বালক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বনদপ্তর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ। তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি চারা গাছ রোপণ করে কর্মসূচির সূচনা করেন। তাঁর সঙ্গে বনদপ্তরের আধিকারিক, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, পড়ুয়া এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও বৃক্ষরোপণে অংশ নেন।

আরও দেখুনঃ চিন-বাংলাদেশের উস্কানি অব্যাহত! শিলিগুড়িতে সীমান্তের কাজ খতিয়ে দেখলেন শাহ

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শংকর ঘোষ বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গাছের বিকল্প নেই। দ্রুত নগরায়ণ, বনভূমি সংকোচন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমশ প্রকৃতিকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রত্যেক মানুষের উচিত অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং সেই গাছের পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়া। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেটিকে বড় করে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈকুণ্ঠপুর বনবিভাগের আধিকারিকরা জানান, অরণ্য সপ্তাহ শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়। এর মূল উদ্দেশ্য মানুষকে বন ও পরিবেশের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। বনভূমি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখতে বৃক্ষরোপণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের এই ধরনের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

আরও দেখুনঃ পুলিশের ঘেরাটোপে পানিহাটিতে তীর্থঙ্কর, দেখামাত্রই উঠল ‘চোর’ স্লোগান

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁদের মতে, শ্রেণিকক্ষে পরিবেশ নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তবে গাছ লাগানোর অভিজ্ঞতা ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃতির প্রতি আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পড়ুয়ারাও উৎসাহের সঙ্গে বৃক্ষরোপণে অংশ নেয় এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করে।

অনুষ্ঠানে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে পরিবেশ সংরক্ষণ, বনায়নের গুরুত্ব এবং গাছের পরিচর্যা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শও দেওয়া হয়। অতিথিরা জানান, শুধু সরকারি উদ্যোগের উপর নির্ভর করলে হবে না, পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষকেও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বাড়ির আশপাশ, স্কুল, অফিস কিংবা খালি জমিতে বেশি করে গাছ লাগানো এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

আরও দেখুনঃ আমতলায় ‘অপারেশন বুলডোজার’! অভিষেকের ৫ তলা পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিচ্ছে প্রশাসন