লকডাউন ফেরার ইঙ্গিত, জ্বালানি সঙ্কটে বিজেপিকে নিশানা মমতার

বর্ধমান: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা৷ জোরকদমে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে জনসভা থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে একাধিক…

Yuva Sathi scheme West Bengal

বর্ধমান: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা৷ জোরকদমে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরে জনসভা থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ করেন তিনি৷

সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আবার লকডাউনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে শুনছি৷ আমি ওদের বিশ্বাস করি না৷” যদিও তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “কোভিডের সময় আমরা লড়েছি, এবারও পারব৷” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে৷

   

রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা ২৫ দিন করার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, “২৫ দিনের আগে বুকিং করা যাবে না এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়বে৷” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “গ্যাস শেষ হয়ে গেলে মানুষ কী করবে?”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি৷ তাঁর কথায়, “গ্যাসের দাম এত বেড়েছে যে সাধারণ মানুষের পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে৷” তিনি দাবি করেন, এই মূল্যবৃদ্ধি মানুষের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে৷

এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তালিকা প্রকাশ হয়েছে বলা হলেও এখনও সব জায়গায় তা দেখা যাচ্ছে না কেন?” তিনি অভিযোগ করেন, বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে৷ এই বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি এবং আন্দোলন করেছি৷ বাদ পড়া নাম ফেরানোই আমাদের লক্ষ্য৷”

মঞ্চ থেকেই কর্মীদের উদ্দেশে মমতার নির্দেশ, “যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়ান৷ প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করুন৷ বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিয়ে ট্রাইবুনালে পাঠান, যাতে কেউ ভোটাধিকার হারায় না৷” এই জনসভা থেকে পরিষ্কার, তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের সমস্যা এবং ভোটাধিকার ইস্যুকে বড় করে তুলে ধরছে৷ পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও চালাচ্ছে৷