শিলিগুড়ি: দার্জিলিং জেলার চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের( tea workers) বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের দাবিতে বুধবার শ্রমিক ভবনে অতিরিক্ত শ্রম কমিশনারের (Additional Labour Commissioner) কাছে স্মারকলিপি জমা দিল দার্জিলিং জেলা চা বাগান মজদুর ইউনিয়ন।
শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা, জমির অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানায় সংগঠনটি। ইউনিয়নের দাবি, বছরের পর বছর ধরে চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার শ্রমিক নানা সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, অথচ সেই সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধানে এখনও পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
আরও দেখুনঃ শিলিগুড়ির গঙ্গানগরে রহস্যজনক ভাবে অসুস্থ পুরো পরিবার! শিশুর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য
ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জানান, এদিন পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি শ্রম দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো চা শ্রমিকদের জমির অধিকার নিশ্চিত করা। বহু শ্রমিক প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা বাগানে বসবাস করলেও এখনও পর্যন্ত জমির স্থায়ী অধিকার পাননি। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করে শ্রমিকদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়াও চা শ্রমিকদের ন্যূনতম হাজিরা মজুরি বৃদ্ধির দাবিও জোরালোভাবে তোলা হয়েছে। ইউনিয়নের বক্তব্য, বর্তমান বাজারদর এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যে পরিমাণ মজুরি প্রয়োজন, বর্তমানে শ্রমিকরা তা পাচ্ছেন না। সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে তাঁদের চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাই অবিলম্বে ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করে তা কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বকেয়া পেনশন দ্রুত পরিশোধের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ইউনিয়নের অভিযোগ, বহু অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে পেনশনের অর্থ না পেয়ে আর্থিক সংকটে ভুগছেন। বারবার আবেদন করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে বহু প্রবীণ শ্রমিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রশাসনের কাছে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে লংভিউ চা বাগানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। ইউনিয়নের দাবি, ওই বাগানের শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার দ্রুত সমাধান করা জরুরি। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাগানের স্বাভাবিক কাজকর্ম নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানানো হয়েছে।
ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা আরও অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলেও এই সমস্যাগুলির সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে প্রত্যাশিত তৎপরতা দেখা যায়নি বলেও তারা দাবি করেন। তাদের মতে, শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপই এখন সময়ের দাবি।
এদিন শ্রমিক ভবনে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় ইউনিয়নের সদস্যরা বলেন, চা শিল্প উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। অথচ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রশ্নে এখনও বহু সমস্যা রয়ে গেছে। প্রশাসন যদি দ্রুত এই দাবিগুলির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাহলে হাজার হাজার চা শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের তরফে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথেও হাঁটার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে আপাতত আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চায় সংগঠন। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন ইউনিয়নের নেতারা।





