শিবশঙ্কর আদক, কলকাতা ডেস্ক: নিউ ইয়র্কের এক সাদামাটা কফি শপ, আড্ডায় মগ্ন পিটার পার্কার, ওরফে স্পাইডারম্যান, আর হঠাৎই দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলেন স্বয়ং ফুটবল ঈশ্বর লিওনেল মেসি (Lionel Messi)! ফুটবল আর হলিউডের এমন মহাজাগতিক ক্রসওভার কি আগে কখনও দেখেছে বিশ্ব?
মাঠে এখন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ জ্বর। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার আগে ছুটছেন লিওনেল মেসি। ঠিক এমন এক টানটান উত্তেজনার মাঝেই হলিউডের সুপারহিরো মাল্টিভার্সে আছড়ে পড়ল ‘মেসি ম্যাজিক’। মার্ভেলের আপকামিং ছবি ‘স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মুক্তির ঠিক আগে সনি পিকচার্স এমন এক অভাবনীয় প্রোমো নিয়ে এল, যা দেখে ক্রীড়া ও বিনোদন দুই দুনিয়ার অনুরাগীদেরই চোখ রীতিমতো কপালে!
ক্যাফেতে আকস্মিক চমক
সনি পিকচার্সের রিলিজ করা এই মজাদার প্রোমো ভিডিওর শুরুটা হয় খুব স্বাভাবিক ছন্দে। দেখা যায়, স্পাইডারম্যান পিটার পার্কার (টম হল্যান্ড) ক্যাফেতে বসে ফোনে গভীর আলোচনায় মগ্ন। কথা বলতে বলতে হঠাৎ সামনে কাউকে দেখে তিনি এতটাই হতভম্ব হয়ে যান যে, ফোনের ওপারের মানুষটাকে চিৎকার করে বলে ওঠেন, “শাট আপ!” পিটারের এই আকস্মিক বিষম খাওয়ার কারণ কোনো ফোন কল ছিল না। কারণ ক্যাফের দরজা ঠেলে ততক্ষণে ঢুকে পড়েছেন স্বয়ং মেসি।
ভিডিওর সবচেয়ে মজার দিকটি হলো ক্যাফে মালিকের প্রতিক্রিয়া। তাঁর নির্বিকার হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, মেসির মতো বিশ্বতারকা যেন রোজই তাঁর দোকানে কফি খেতে আসেন!
স্পাইডার-ম্যানের খোঁজে এলএম টেন
পিটার তো নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। বিস্ময়ের সুরে তিনি বলে ওঠেন, “মেসি?”। ওদিকে এলএম টেন নিজের ফোনটা উঁচিয়ে শান্ত ভঙ্গিতে ইশারা করেন যে, তিনি আসলে স্পাইডারম্যানকে খুঁজছেন। শোনামাত্রই পিটার আর সময় নষ্ট না করে আড়ালে গিয়ে তাঁর চেনা স্পাইডি স্যুটে ফিরে আসেন। মেসি কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্পাইডারম্যানের প্রশ্ন উড়ে আসে, “হাইট নিয়ে ভয় নেই তো?”
ম্যানহাটনের আকাশে ‘জয় রাইড’
এর পরের দৃশ্যটি এক কথায় রোমাঞ্চকর! যে মানুষটা সবুজ গালিচায় ড্রিবলিংয়ের জাদুতে বিপক্ষকে মাটিতে শুইয়ে দেন, তাঁকেই দেখা গেল ম্যানহাটনের আকাশচুম্বী ইমারতগুলোর মাঝখান দিয়ে স্পাইডির সঙ্গে আকাশে উড়তে! ক্যারিয়ারের প্রথম ‘ওয়েব স্লিংগিং’ রাইডের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে গিয়ে মেসির হাসি আর হুল্লোড়ে চিৎকার বুঝিয়ে দেয়, ফুটবলের বাইরের জগতেও তিনি কতটা সাবলীল।
মার্কেটিংয়ের মাস্টারস্ট্রোক
বিশ্বকাপের উন্মাদনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন সনি পিকচার্সের এই প্রচার কৌশলকে মার্কেটিংয়ের মাস্টারস্ট্রোক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ঝড় তুলেছে ভিডিওটি। ভক্তদের মধ্যে রীতিমতো তর্ক জুড়েছে স্পাইডারম্যানের জালে ঝুলে মেসি বেশি খুশি, নাকি খোদ মেসিকে ছুঁতে পেরে টম হল্যান্ডের রাতের ঘুম উড়েছে! তবে সে যাই হোক, ফুটবল আর হলিউডের এই অভাবনীয় যুগলবন্দি যে আপাতত ইন্টারনেট দুনিয়ার সেরা বিনোদন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।





