কলকাতা: মহরমের সন্ধ্যায় কলকাতার মেটিয়াবুরুজের (Mohammad Mokhtar)বাদাড়তলা এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে দাবি করা হচ্ছে, কংগ্রেস নেতা জুনেইদ খান নাকি প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা মেটিয়াবুরুজের বিধানসভা প্রার্থী মোহম্মদ মোখতারকে মারধর করেছেন। কিন্তু স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং ঘটনাস্থলের তথ্য বিশ্লেষণ করলে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি সামনে আসে। প্রাথমিকভাবে যে দাবি ছড়ানো হয়েছে, তা বাস্তবের সঙ্গে মিলছে না বলেই স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, মহরম উপলক্ষে এলাকায় ভিড়ের মধ্যেই আচমকা মোহম্মদ মোখতারের উপর একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায়। ঘটনাটি ঘটতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সেই সময় স্থানীয় কংগ্রেস নেতা জুনেইদ খান এবং তাঁর সহযোগীরাও এগিয়ে আসেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
আরও দেখুনঃ বিধানসভায় আসছে UCC! ‘বাংলাদেশ বানানোর চক্রান্ত চলছে’, তোপ দিলীপের
ভাইরাল ভিডিওতে জুনেইদ খানকে কয়েকজনকে মারধর করতে দেখা গেলেও, স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী তিনি মোহম্মদ মোখতারকে আঘাত করেননি। বরং যারা মোখতারের উপর হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ, তাঁদের ধাওয়া করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এলাকায় হুড়োহুড়ি ও ধস্তাধস্তির পরিবেশ তৈরি হয়, যার একটি অংশই ভিডিওতে ধরা পড়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, এই হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তাঁদের অভিযোগ, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা মোহম্মদ মোখতারকে লক্ষ্য করেই হামলার ছক কষা হয়েছিল। একই সঙ্গে জুনেইদ খানকেও আইনি ও রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনার ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভ্রান্তিকর নানা দাবি সামনে আসতে থাকে। অনেকেই ভিডিওর একটি ছোট অংশ দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যান যে জুনেইদ খান নিজের দলের নেতাকেই মারধর করেছেন। কিন্তু সম্পূর্ণ ঘটনার প্রেক্ষাপট সামনে আসার পর সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ভিডিওর সম্পূর্ণ অংশ এবং ঘটনাক্রম বিশ্লেষণ না করে শুধুমাত্র কয়েক সেকেন্ডের ক্লিপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তাঁদের বক্তব্য, জুনেইদ খান হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতেই এগিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেই সময় ধস্তাধস্তির দৃশ্যই ভাইরাল হয়েছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দল থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং তার সঙ্গে যুক্ত দাবিগুলিও যাচাই করে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।



