মিনাখাঁ: উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ এলাকায় এক নৃশংস ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Minakhan)। অভিযোগ, প্রতিবেশী বাপ্পা মোল্লা নামে এক ব্যক্তি এক নাবালিকা মেয়েকে অপহরণ করে ধর্ষণ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাতের অন্ধকারে, যখন মেয়েটি কোচিং ক্লাস থেকে বাড়ি ফিরছিল। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে দ্রুত অভিযুক্ত বাপ্পা মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় সূত্র এবং পরিবারের বক্তব্য অনুসারে, মেয়েটি নিয়মিত কোচিংয়ে পড়তে যায়। সেদিন রাতে ক্লাস শেষ করে বাড়ির পথে ফিরছিল সে। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, প্রতিবেশী বাপ্পা মোল্লা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে মেয়েটিকে জোর করে টেনে নিয়ে যায় এবং নির্জন স্থানে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর মেয়েটি কোনোভাবে বাড়ি ফিরে পরিবারকে জানায়। পরিবার তৎক্ষণাৎ থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
পুলিশ দ্রুত অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্ত বাপ্পা মোল্লাকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। মেয়েটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে, তবে ট্রমার শিকার সে। ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।এলাকায় এই ঘটনা জানাজানি হতেই তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারল। মেয়েটির পরিবারের এক সদস্য কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমরা তো কাউকে কিছু বলিনি। প্রতিবেশী হিসেবে বিশ্বাস করতাম। কিন্তু সে এমন কাজ করবে ভাবতেই পারিনি। আমার মেয়েটার জীবনটা নষ্ট হয়ে গেল।”
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে ধর্ষণ এবং অপহরণের মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হবে এবং তার পূর্ব ইতিহাস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সুপার বলেছেন, “আমরা খুবই গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। মেয়েটির নিরাপত্তা ও বিচার নিশ্চিত করা আমাদের প্রথম দায়িত্ব।”
এই ধরনের ঘটনা সমাজে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। নাবালিকাদের নিরাপত্তা, বিশেষ করে রাতের বেলায় একা চলাফেরা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলো দাবি করেছে, এলাকায় আলোর ব্যবস্থা বাড়ানো, নিয়মিত পুলিশ পেট্রোলিং এবং সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন। অনেক অভিভাবক এখন সন্তানদের কোচিংয়ে যাওয়া-আসার বিষয়ে আরও সতর্ক হয়ে উঠেছেন




