ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে বড় অগ্রগতি, আগামী চার বছরের রোডম্যাপ ঘোষণা

কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে বন্যার (Ghatal Master plan) কবলে পড়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমার লক্ষাধিক বাসিন্দাকে। প্রতি বছর বর্ষা এলেই শিলাবতী, কংসাবতী…

major-boost-for-ghatal-master-plan-minister-announces-next-phase

কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে বন্যার (Ghatal Master plan) কবলে পড়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমার লক্ষাধিক বাসিন্দাকে। প্রতি বছর বর্ষা এলেই শিলাবতী, কংসাবতী ও অন্যান্য নদীর জল উপচে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। গ্রাম, চাষের জমি, রাস্তা এবং জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে এবার আরও একধাপ এগোল রাজ্য সরকার। প্রশাসনের লক্ষ্য, আগামী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রকল্পের সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ করা।

আরও পড়ুন: বারুইপুর কাণ্ড: মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ, ধৃত বেড়ে ৩

রবিবার ঘাটাল টাউন (Ghatal Master plan) হলে প্রাক-বন্যা পরিস্থিতি এবং ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অগ্রগতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস, সেচ দফতরের মুখ্য সচিব রাজেশকুমার সিনহা, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ, জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা-সহ প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক।

বৈঠকের শুরুতেই চলতি বর্ষায় সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ঘাটাল, দাসপুর, চন্দ্রকোনা-সহ নদীবিধৌত বিস্তীর্ণ এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রতিবছরের জলাবদ্ধতার সমস্যাকে সামনে রেখে কীভাবে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে, নিরাপদ পানীয় জল, খাদ্য, চিকিৎসা পরিষেবা এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হবে, তা নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।

আরও পড়ুন: বারুইপুরের উদ্দেশে রওনা তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের

বৈঠক শেষে সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ১,২৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই প্রকল্পকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তাঁর কথায়, “আগামী চার বছরের মধ্যে প্রকল্পের সমস্ত কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।”

আরও পড়ুন: বারুইপুর কাণ্ড: শিউরে ওঠার মতো ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, নৃশংস ধর্ষণের ইঙ্গিত

মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুইস গেটের সংস্কার ও মেরামতির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এই কাজ ভবিষ্যতে অতিরিক্ত জল নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে বর্তমানে বর্ষাকাল চলায় নদীতে জলস্তর বেশি থাকায় বড় ধরনের নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব নয়। তাই বর্ষা শেষ হওয়ার পরই প্রকল্পের মূল পর্বে গতি আসবে।

বর্ষা কাটলেই নদী সংস্কার, নদীর পলি অপসারণ, বাঁধ শক্তিশালীকরণ, নতুন ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি এবং পুরনো নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ পূর্ণমাত্রায় শুরু হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্ষাকালে দীর্ঘদিন ধরে যে জলাবদ্ধতা ও বন্যার সমস্যায় সাধারণ মানুষকে ভুগতে হয়, তা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।