বারুইপুর কাণ্ড: দোষীদের ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ দেওয়ার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা: বারুইপুরের সূর্যপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এই…

কলকাতা: বারুইপুরের সূর্যপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এই নৃশংস অপরাধের বিচার হবে দৃষ্টান্তমূলক। দোষীদের ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ বা সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেছেন, “পরিবার যেভাবে চাইছে, সেভাবেই ন্যায়বিচার হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।”

তদন্তে সাম্প্রদায়িক যোগের ইঙ্গিত

সোমবার এই ঘটনা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বারুইপুরের পরিস্থিতির সঙ্গে সামশেরগঞ্জ ও বেলডাঙার ঘটনার মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। খুনের ঘটনায় তিনটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা গণপিটুনির ঘটনার। মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই ঘটনার পেছনে একটি বিশেষ ‘সাম্প্রদায়িক অ্যাঙ্গেল’ বা যোগসূত্র থাকতে পারে। তিনি বলেন, “তদন্ত চলছে। এর থেকে বেশি কিছু তদন্ত চলাকালীন বলা উচিত নয়।” তবে তিনি মৃতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং রাজ্য সরকার যে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে রয়েছে, তা পুনরায় নিশ্চিত করেছেন।

Advertisements

অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক কঠোরতা

গত শনিবার বিকেলে খাবার কেনার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল ওই নাবালিকা। রবিবার বাড়ির কাছের পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হতেই এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পরিবারের অভিযোগ, চার যুবক কিশোরীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে খুন করেছে। এই ঘটনার জেরে শিয়ালদা-নামখানা লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকায় তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারুইপুর, সোনারপুর ও নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় বিএসএন (BNS)-এর ১৬৩ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

তদন্ত ও গ্রেফতারি

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে কিশোরীর ওপর ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনায় পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ইতিমধ্যে সক্রিয় হয়েছে। মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে সবরকম আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর গোটা বারুইপুর এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নৃশংস ঘটনাটি রাজ্যের নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সিট (SIT) তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।