পারদ ১৩ ডিগ্রির পথে, তবু বৃষ্টির বাধায় শীত অনিশ্চিত বাংলায়

কলকাতা: ক্যালেন্ডারের পাতায় শীত নামলেও বঙ্গের আকাশে শীতের (winter forecast) স্থায়ী আগমন এখনও অধরা। উত্তর ভারতে ইতিমধ্যেই কনকনে ঠান্ডা, জম্মু–কাশ্মীর থেকে হিমাচল, পঞ্জাব, দিল্লি শৈত্যপ্রবাহের…

Kolkata Winter Temperature

কলকাতা: ক্যালেন্ডারের পাতায় শীত নামলেও বঙ্গের আকাশে শীতের (winter forecast) স্থায়ী আগমন এখনও অধরা। উত্তর ভারতে ইতিমধ্যেই কনকনে ঠান্ডা, জম্মু–কাশ্মীর থেকে হিমাচল, পঞ্জাব, দিল্লি শৈত্যপ্রবাহের কবলে। অথচ পূর্ব ভারতে, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে, শীতের কাঁটা থেমে থেমে নড়াচড়া করছে, কিন্তু জমাট বাঁধছে না। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বক্তব্য, রাতের তাপমাত্রা নামছে ঠিকই, কিন্তু আর্দ্রতা ও সম্ভাব্য বৃষ্টির কারণে শীত এবারেও দেরিতে প্রবেশ করতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলোতে ইতিমধ্যেই রাতের তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রির নীচে নেমেছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলিতে আগামী কয়েকদিন রাতের পারদ ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ছুঁতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কলকাতাতেও পতন শুরু হয়েছে। নতুন সপ্তাহের শুরুতেই শহরের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি বা তার সামান্য নীচে নামতে পারে। তবে নিম্নচাপ বা জলীয় বাষ্পের আগমন হলে শীত আবার সাময়িক বিদায় নেবে, বাড়বে তাপমাত্রা।

   

IMD–র পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এই তিন মাসে পূর্ব ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। যখনই পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বা বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করবে, তখনই আকাশে মেঘ বাড়বে এবং রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে দেবে। আর এই কারণেই শীত এসে উঁকি দিলেও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারবে না। আবহাওয়াবিদদের মতে, শুষ্ক উত্তর–পশ্চিমী হাওয়া যতদিন না জোরদার ভাবে রাজ্যে প্রবেশ করছে, ততদিন শীত স্থায়ী আসন পাবে না।

দক্ষিণবঙ্গে শীতের দোলাচল চললেও উত্তরবঙ্গের ছবিটা কিছুটা আলাদা। দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এই জেলাগুলোর ভোরেই ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। সূর্য ওঠার আগে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের অনুভূতি ভালোই টের পাওয়া যাচ্ছে। যদিও বেলার দিকে সূর্যের তাপে ঠান্ডার প্রভাব কমে যাচ্ছে। আপাতত উত্তরবঙ্গেও শুকনো আবহাওয়া বজায় থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরের শুষ্ক হাওয়া শক্তিশালী হলে, বাংলায় জাঁকিয়ে শীত পড়ার পথ খুলবে। তার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে। ততদিন ঠান্ডা–গরমের টানাপোড়েন, হঠাৎ বৃষ্টি বা মেঘলা আকাশ এই লুকোচুরি চলতেই থাকবে।