কেশপুর: প্রথম দফার ভোটের দিন চরম মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর বিধানসভা কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার সকালে বুথ থেকে ভোট দিয়ে বেরোনোর ঠিক পরেই আচমকা মৃত্যু হল এক প্রৌঢ়া ভোটারের। মৃতের নাম ইসরাতন বিবি (৫০)। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে পরিজনদের নাম বাদ পড়ার চরম দুশ্চিন্তা থেকেই এই পরিণতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন কেশপুরের তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা।
কী ঘটেছিল বুথের বাইরে?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কেশপুরের সীমাগেরিয়া এলাকার বাসিন্দা ইসরাতন বিবি এদিন সকালে এলাকার দিঘা বুথে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটদান পর্ব মিটিয়ে বুথ থেকে বেরোনোর পরেই তিনি আচমকা অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
পরিবারের দাবি ও তালিকা-বিতর্ক Keshpur Woman Voter Dies
মৃতের বাড়িতে স্বামী শেখ নবাবজান আলি ছাড়াও দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন। শোকস্তব্ধ পরিবারের দাবি, ইসরাতনের স্বামী-সহ পরিবারের অন্যান্য সব সদস্যের নামই ভোটার তালিকা (SIR) থেকে রহস্যজনকভাবে কেটে দেওয়া হয়েছিল। গোটা পরিবারের ভোটাধিকার হারানোর এই বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই চরম মানসিক অবসাদ ও টেনশনে ভুগছিলেন ওই প্রৌঢ়া।
‘লজ্জা হওয়া উচিত জ্ঞানেশ কুমারের’, ক্ষুব্ধ শিউলি সাহা
এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়েই তড়িঘড়ি শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তাঁদের বাড়িতে ছুটে যান এলাকার তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা। পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি এই মৃত্যুর জন্য তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তোলেন। ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিউলি সাহা বলেন, “এটা গণতন্ত্রের লজ্জা। ভোটের দিন এমন মর্মান্তিক ঘটনা দেখতে হবে তা কখনও ভাবিনি। পরিবারের কারও নাম তালিকায় নেই, সেই নিয়ে উনি প্রচণ্ড টেনশনে ছিলেন। আজ ভোট দিয়েই মারা গেলেন।” এরপরই নির্বাচন কমিশনারকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, “লজ্জা হওয়া উচিত জ্ঞানেশ কুমারের।”




















