কল্যাণী বিমানবন্দরের জন্য ২০০০ একর জমি চিহ্নিত, কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ে এগোচ্ছে রাজ্য

কলকাতা: কলকাতার দ্বিতীয় বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনায় বড় অগ্রগতির দাবি করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার জানান, নদিয়ার কল্যাণীতে প্রায় ২,০০০ একর জমি চিহ্নিত করা…

kalyani-second-airport-2000-acre-land-identified-west-bengal

কলকাতা: কলকাতার দ্বিতীয় বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনায় বড় অগ্রগতির দাবি করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার জানান, নদিয়ার কল্যাণীতে প্রায় ২,০০০ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে প্রস্তাবিত গ্রিনফিল্ড (Greenfield) বিমানবন্দর প্রকল্পের জন্য। এই বিমানবন্দর তৈরি হলে কলকাতা ও আশপাশের অঞ্চলের বিমান পরিষেবার ওপর চাপ কমবে এবং ভবিষ্যতের যাত্রী চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে সরকার।

একটি সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিবহণ ও বিমান পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে UDAN (উড়ান) আঞ্চলিক বিমান সংযোগ প্রকল্পে যোগ দেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

Advertisements

কোথায় তৈরি হতে পারে দ্বিতীয় বিমানবন্দর?

সরকারি সূত্রের দাবি, দ্বিতীয় বিমানবন্দরের জন্য চিহ্নিত জমি AIIMS কল্যাণীর পিছনের এলাকা থেকে চাকদহ বিধানসভার সিমুরালির নরপতি পাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত।

এই এলাকা জাতীয় সড়ক ১২ (NH-12)-এর খুব কাছেই অবস্থিত। বর্তমান নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার, যা সড়কপথে প্রায় এক ঘণ্টার যাত্রা।

সরকারি এক আধিকারিকের দাবি, প্রাথমিক মাটি পরীক্ষায় (Soil Testing) এই জমি বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করেছে।

কেন্দ্রের UDAN প্রকল্পে রাজ্যের অংশগ্রহণ

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় UDAN Regional Connectivity Scheme-এ যোগ দিয়েছে। এর ফলে বালুরঘাট, মালদা এবং পুরুলিয়া বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য কেন্দ্রের সহযোগিতা মিলেছে।

সরকারের আশা, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে বিমান যোগাযোগ আরও উন্নত হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিও গতি পাবে।

পরিবহণ পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর

রাজ্যের বাজেটে ঘোষিত পরিবহণ সংক্রান্ত পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের সহযোগিতায় রাজ্যের পরিবহণ পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
সরকারের মতে, নতুন বিমানবন্দর, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ভবিষ্যতে শিল্প, বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

ইউরোপের সঙ্গে সরাসরি বিমান পরিষেবা নিয়েও মন্তব্য

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, একসময় কলকাতা থেকে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে সরাসরি বিমান পরিষেবা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই পরিষেবাগুলি ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে লন্ডন-সহ ইউরোপের কোনও শহরের সঙ্গে কলকাতার সরাসরি বিমান যোগাযোগ নেই। বিমান পরিষেবার উন্নয়নে অতীতে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দ্বিতীয় বিমানবন্দর নিয়ে পুরনো প্রস্তাবের প্রসঙ্গ

মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, কলকাতার কাছে দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরির বিষয়ে অতীতে কেন্দ্রের তরফে জমি চাওয়া হয়েছিল। তবে সেই সময় নির্দিষ্ট এলাকায় জমি অধিগ্রহণ সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছিল।

বর্তমানে কল্যাণীতে ২,০০০ একর জমি চিহ্নিত হওয়ার ফলে দীর্ঘদিনের দ্বিতীয় বিমানবন্দরের পরিকল্পনা নতুন করে গতি পেতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন। তবে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ, কেন্দ্রীয় অনুমোদন এবং নির্মাণের সময়সূচি সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত ঘোষণা করা হয়নি।