কলকাতা: মেয়েদের নিরাপত্তা জোরদার করতে সক্রিয় ভুমিকা নিল বিজেপি সরকার৷ নারী পাচার, বাল্যবিবাহ ও শোষণ রুখতে নয়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য (West Bengal) সরকার। সেই লক্ষ্যেই এবার কোনও ছাত্রী আগাম কারণ না জানিয়ে টানা সাত দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে সেই তথ্য প্রশাসনকে জানাতে হবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। প্রাথমিকভাবে এই ব্যবস্থা বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মালদা জেলায় চালু হয়েছে। পরে ধাপে ধাপে কলকাতাসহ রাজ্যের সমস্ত জেলায় এই নির্দেশ কার্যকর করা হবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
সম্প্রতি মালদার দুই স্কুলছাত্রীকে একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। পরে শিলিগুড়ি থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, দুই ছাত্রী স্কুলের পোশাক পরে বাড়ি থেকে বের হলেও পরে পোশাক বদলে ফেলে। পরিবারের দাবি ছিল, তারা স্কুলে গিয়েছে। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে কোনও খোঁজ-খবর নেয়নি। এই ঘটনার পরই নজরদারি আরও কড়া করার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা দফতর।
Also Read | ভিড় কম তো কী! ৩৫ জনের ডিম-ভাত রান্নায় বহাল একুশের নস্ট্যালজিয়া
কারা এই নিয়মের আওতায়?
মালদার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) এই নির্দেশ জারি করেছেন। এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে পঞ্চম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রিত এবং সরকার-পোষিত (Aided) সমস্ত স্কুলে।
৭ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে কী করতে হবে?
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও ছাত্রী যদি টানা সাত দিন বা তার বেশি সময় স্কুলে অনুপস্থিত থাকে এবং আগে থেকে কোনও কারণ না জানায়, তাহলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকাকে বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে।
প্রথম ধাপে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে নির্দিষ্ট Google Form-এর মাধ্যমে তথ্য জমা দিতে হবে। এরপর থেকে প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর এই ধরনের রিপোর্ট পাঠাতে হবে।
Also Read | পরিবহণে বড় বদল: রাজ্যে এল ৫০টি নতুন এসি বাস ও ওয়াটার মেট্রো
রিপোর্টে কী কী তথ্য দিতে হবে?
স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিম্নলিখিত তথ্য জমা দিতে হবে:
• ছাত্রীর নাম
• কোন শ্রেণিতে পড়ে
• অভিভাবকের নাম
• অভিভাবকের যোগাযোগের নম্বর
এই তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।
শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও দেওয়া হয়েছে বিশেষ দায়িত্ব
শুধু উপস্থিতির হিসাব রাখাই নয়, প্রতিদিন শ্রেণিশিক্ষকদের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মানব পাচারের বিভিন্ন কৌশল ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোনও সন্দেহজনক ঘটনা নজরে এলে বা কেউ প্রলোভন দেখালে তা যেন সঙ্গে সঙ্গে জানানো হয়, সেই বিষয়ে সচেতন করতেও বলা হয়েছে।
প্রতি মাসে জমা দিতে হবে Action Taken Report
শুধু অনুপস্থিতির রিপোর্ট নয়, প্রতিটি স্কুলকে প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে একটি Action Taken Report (ATR) জমা দিতে হবে। সেখানে স্কুল কী ধরনের সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিবরণ থাকবে।
কীভাবে কাজ করবে এই ব্যবস্থা?
শিক্ষা দফতরের কর্মকর্তাদের মতে, এই উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা একটি Early Warning System হিসেবে কাজ করবে। যদি কোনও ছাত্রী হঠাৎ করে স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়, তাহলে দ্রুত বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসবে। এতে মানব পাচার, জোরপূর্বক শ্রমে নিযুক্ত করা বা বাল্যবিবাহের মতো ঝুঁকির ক্ষেত্রে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের সমর্থন
এনজিও শক্তি বাহিনীর সমাজকর্মী ঋষি কান্ত এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, স্কুলভিত্তিক উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় স্তরে নজরদারি বাড়ানো গেলে মানব পাচারের মতো অপরাধ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
রাজ্য সরকারের আশা, মালদায় শুরু হওয়া এই ব্যবস্থা সফল হলে তা দ্রুত গোটা রাজ্যে চালু করা যাবে এবং মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।





