মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে অবশেষে অ্যাকশনে পুলিশ! তমন্না কাণ্ডে ধৃত আরও ২

কলকাতা/কালীগঞ্জ: মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচারের আর্জি জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলল ফল। কালীগঞ্জের ছয় বছরের শিশুকন্যা তমন্না খাতুনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার…

Kaliganj Tamanna Khatun murder case two more arrested

কলকাতা/কালীগঞ্জ: মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচারের আর্জি জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলল ফল। কালীগঞ্জের ছয় বছরের শিশুকন্যা তমন্না খাতুনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এই নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩। (Kaliganj Tamanna Khatun murder case two more arrested)

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মায়ের সাক্ষাৎ

মঙ্গলবার বিধানসভা ভবনে গিয়ে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন নিহত তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রতিটি অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবি নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এদিন সাবিনার সঙ্গে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়েছিলেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। সাক্ষাতের পর বিধানসভার গেটের বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাবিনা জানান, “মুখ্যমন্ত্রী আমাকে পুরোপুরি আশ্বস্ত করেছেন। আমি ভরসা পেয়েছি।”

   

তৎপর পুলিশ, রাতেই জোড়া গ্রেফতার

মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরই মঙ্গলবার রাতে তৎপর হয় প্রশাসন। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং নদিয়ার পলাশিপাড়া এলাকা থেকে জিয়ারুল সেখ ও সাবির শেখ নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ। এর আগে, সোমবার কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার অতুল ভি-র কাছেও দোষীদের শাস্তির দাবিতে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল বাম সংগঠনগুলি। পুলিশ সুপার আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে।

কী ঘটেছিল কালীগঞ্জে?

২০২৫ সালের ২৩ জুন কালীগঞ্জে বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় মাত্র ছ’বছরের তমন্নার। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া বোমার আঘাতেই ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পুলিশ তদন্তে নেমে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল।

তবে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বারবার পুলিশের দ্বারস্থ হন তমন্নার মা। সাবিনা এর আগে একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন যে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মেয়েকে বিচার দিতে পারেননি। রাজ্যে পালাবদলের পর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর ভরসা রেখেই মঙ্গলবার তিনি দরবার করেন এবং অবশেষে মেলে পুলিশের এই জোরালো পদক্ষেপ।