টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা করেছেন মানস ভূঁইয়া (manas bhunia)। এমনটাই অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। প্রবল হচ্ছে গ্রেফতারির সম্ভবনা। এই আশঙ্কাতেই হাইকোর্টে রক্ষা কবচ চেয়ে মামলা মানস ভূঁইয়ার।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানায় দায়ের হওয়া চাকরির নামে আর্থিক প্রতারণার মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সদ্য তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগী নেতা মানস ভূঁইয়া। গ্রেফতারির আশঙ্কার মধ্যেই এবার রক্ষা কবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
আরও দেখুনঃ দক্ষিণের ৭ জেলায় কালবৈশাখী সতর্কতা, বৃষ্টি চলবে উত্তরেও
অভিযোগকারী বিকাশ টুঙ্গ, যিনি বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা, লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন যে তাঁর স্ত্রীকে সেচ দপ্তরের বাংলোয় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে মানস ভূঁইয়ার মধ্যস্থতায় মোট ৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীর দাবি, টাকা দেওয়ার পর তাঁর স্ত্রী চাকরিতে যোগদানও করেন। কিন্তু মাত্র দুই মাস কাজ করার পর চলতি বছরের মে মাসে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এরপরই প্রতারণার অভিযোগ তুলে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে সবং থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৩১৮(৪) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করেছে। তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই মানস ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মামলার তদন্ত যত এগোবে, ততই তাঁর ওপর আইনি চাপ বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে গ্রেফতারি এড়াতে প্রথমে মেদিনীপুর জেলা আদালতে আগাম জামিন বা অ্যান্টিসিপেটরি বেলের আবেদন করেছিলেন মানস ভূঁইয়া। তবে আদালতে জমা দেওয়া নথি সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে গত ১৮ জুন মামলার শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আইনি সুরাহা না মেলায় তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সূত্রেই এবার কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষা কবচ চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছেন মানস ভূঁইয়া। তাঁর বক্তব্য, এই অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘ ৫৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনও দুর্নীতি বা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁর নাম জড়ায়নি।
মানস ভূঁইয়ার কথায়, “আমার রাজনৈতিক জীবনে বহু আন্দোলন, সংগ্রাম এবং জনসেবার ইতিহাস রয়েছে। কখনও কোনো দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, আদালতের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং বিচারব্যবস্থা থেকেই তিনি ন্যায়বিচার পাবেন বলে বিশ্বাস করেন।



