চলছিল পাচার! বিজেপি নেত্রীর হস্তক্ষেপে ইসলামপুরের যৌন পল্লী থেকে উদ্ধার ৪৪ নাবালিকা

ইসলামপুর: উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর। (Islampur)চম্পাবাগের আলো-আঁধারি যৌনপল্লীতে এক রাতের অভিযানে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে উদ্ধার হয়েছে ৪৪ জন নাবালিকা মেয়ে। অভিযোগ, বিহার, অসম সহ বিভিন্ন রাজ্য…

islampur-minor-girls-rescue

ইসলামপুর: উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর। (Islampur)চম্পাবাগের আলো-আঁধারি যৌনপল্লীতে এক রাতের অভিযানে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে উদ্ধার হয়েছে ৪৪ জন নাবালিকা মেয়ে। অভিযোগ, বিহার, অসম সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পাচার করে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। জোর করে দেহব্যবসায় বাধ্য করার এই চক্র ভাঙতে পুলিশের এই অভিযানকে অনেকেই সাহসী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করছেন।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেত্রী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী, যিনি ‘নির্ভয়া দিদি’ নামে পরিচিত। নারী ও শিশু পাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরব এই নেত্রী পুলিশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করেছেন। উদ্ধার অভিযানের পর তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন “এখানেও বুলডোজার চলবে।” তাঁর কথায়, যারা এই নোংরা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও দেখুনঃ দুর্যোগের জেরে আকাশপথ বাতিল, সড়কপথেই বহরমপুর রওনা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কোনও ছাড় নয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইসলামপুর পুলিশ স্টেশনের টিম বিশেষ অভিযান চালায়। চম্পাবাগ এলাকার একাধিক স্থানে একযোগে তল্লাশি চলে। প্রথমে কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়, পরে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৪-এ। মেয়েদের বেশিরভাগই নাবালিকা। তাদের মধ্যে বিহার ও অসমের মেয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

কয়েকজন গুজরাত থেকেও আসা বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পুলিশ চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার, যৌন শোষণ ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।উদ্ধার হওয়া মেয়েদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পুলিশের কাছে তাদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা বলেছে।

আরও দেখুনঃ ১৬ বছর প্রতীক্ষার অবসান: মূল থানার দায়িত্বে দুই মহিলা ওসি, চেনেন তাঁদের?

কেউ বলেছে “চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। কেউ আবার জানিয়েছে, তাদের আটকে রেখে মারধর করা হতো, বাইরে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না। এইসব কথা শুনে উপস্থিত সামাজিক কর্মীরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী অভিযানের সময় পুরো সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের আশ্বস্ত করেন।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “এটা শুধু একটা অভিযান নয়, এটা একটা বার্তা। পাচারকারীদের আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না বাংলায়। যেখানেই এমন ঘাঁটি, সেখানেই বুলডোজার চলবে। প্রশাসনকে ধন্যবাদ, তারা সাহসের সঙ্গে কাজ করেছে।” ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপারিনটেনডেন্ট রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

আরও দেখুনঃ ‘প্রতিবাদের নাম করে বারবার বঙ্গে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করেন মমতা!’ বিস্ফোরক শুভেন্দু

প্রথমবারের মতো ড্রোন ব্যবহার করে এলাকা নজরদারি করা হয়, যা অভিযানের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কয়েকজন সন্দেহভাজন পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধরে ফেলে। তদন্ত চলছে। পুলিশ বলছে, এই চক্রের বড় মাথাদেরও খুঁজে বের করা হবে।