মহিলাদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে কলকাতা পুলিশের অন্দরে এক ঐতিহাসিক রদবদল ঘটল। দীর্ঘ ১৬ বছর পর শহরের দুটি মূল থানায় অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নিলেন দুই মহিলা পুলিশ আধিকারিক। এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক ও পুলিশি মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কোন কোন থানায় দায়িত্ব নিলেন কারা?
বৃহস্পতিবার কলকাতা পুলিশের ৩৩টি থানার ইন্সপেক্টর পদে রদবদল করা হয়। সেখানে নগরপাল ঘোষণা করেন, সরশুনা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন রূপা সিং, যিনি আগে টালিগঞ্জ মহিলা থানার ওসি ছিলেন। পাশাপাশি, সিঁথি থানার নতুন ওসি হয়েছেন চামেলি মুখোপাধ্যায়, যিনি এর আগে উল্টোডাঙা মহিলা থানার দায়িত্বে ছিলেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, শেষবার ২০১০ সালে বাম আমলে নর্থ পোর্ট থানার দায়িত্ব সামলেছিলেন দেবশ্রী চট্টোপাধ্যায়। এরপর দীর্ঘ দেড় দশক কলকাতা পুলিশের মূল বা রেগুলার থানাগুলিতে শুধুমাত্র পুরুষ আধিকারিকরাই ওসি পদে আসীন ছিলেন। মহিলা অফিসারদের সাধারণত শুধুমাত্র ‘মহিলা থানা’-র দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ রাখা হতো। দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেই প্রথা ভেঙে মূল থানায় মহিলা ওসি নিয়োগের এই উদ্যোগকে নারী ক্ষমতায়নের পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
মহিলাদের নিরাপত্তায় নয়া উদ্যোগ
ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি থানায় মহিলাদের জন্য বিশেষ ‘হেল্প ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে। এই ডেস্কগুলিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা অফিসারদের জন্য প্রশিক্ষণ শিবিরেরও আয়োজন করা হচ্ছে। মূল লক্ষ্য একটাই—মহিলাদের যাতে ন্যায়বিচারের জন্য এক থানা থেকে অন্য থানায় ঘুরতে না হয় এবং তাঁরা যাতে সরাসরি সংশ্লিষ্ট থানাতেই অভিযোগ জানাতে পারেন।
পূর্বতন সরকারের আমলে ‘পিঙ্ক বুথ’ বা ‘শাইনিং’-এর মতো উদ্যোগের পর, বর্তমান প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নারী সুরক্ষাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশাবাদী পুলিশ প্রশাসন। বারুইপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে মহিলাদের উপর হওয়া অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির যে বার্তা সরকার দিচ্ছে, এই রদবদল তারই একটি অংশ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
জনগণনা: শিক্ষকদের কাজে যোগদানে কড়া নির্দেশ, অনীহায় জেল-জরিমানার হুঁশিয়ারি
টানা বৃষ্টিতে ভাসল কলকাতা, জলমগ্ন রাস্তায় নাকাল নিত্যযাত্রীরা! চরম যানজট শহরজুড়ে





