পরপর পাঁচ দিন চরম দুর্যোগের পূর্বাভাস, কোন জেলাগুলিতে চোখ রাঙাচ্ছে বৃষ্টি?

কলকাতা: রাজ্যে বর্ষার দাপট অব্যাহত। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চললেও, আসল দুর্যোগের ঘনঘটা উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে।…

কলকাতা: রাজ্যে বর্ষার দাপট অব্যাহত। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চললেও, আসল দুর্যোগের ঘনঘটা উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে। সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে সেখানে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়ার চরম আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে হাওয়া অফিস।

উত্তরবঙ্গে লাল সতর্কতা ও পাহাড় নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ

পাহাড় এবং ডুয়ার্স অঞ্চলে লাগাতার বৃষ্টির জেরে নদী-নালাগুলি ফুলেফেঁপে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। হাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আগামী ৩ থেকে ৫ অগাস্ট পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির দাপট চরম আকার নিতে পারে। এর ফলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি বিচার করে পর্যটকদের অপ্রয়োজনীয় পাহাড়ি যাত্রা এড়ানোর কঠোর পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

Advertisements

গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কালিম্পংয়ের লাভায় ৫৩ মিলিমিটার, আলিপুরদুয়ারের সাঙ্কোশে ৪৯.৪ মিলিমিটার, দক্ষিণ দিনাজপুরের আমফু মাজিয়ানে ৪৮ মিলিমিটার এবং কালিম্পংয়ের ঝালংয়ে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গে কেমন থাকবে আবহাওয়া?

অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ধারা বজায় থাকলেও ভারী দুর্যোগের তেমন কোনো বড় সতর্কতা নেই। আজ ৩০ জুলাই কলকাতা সহ হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ এবং পুরুলিয়ায় এক বা দু’জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

আগামীকাল ৩১ জুলাইয়ের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে সতর্কতার মাত্রা কিছুটা কমবে। তবে উপকূল ও গাঙ্গেয় অঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। পরবর্তীতে ১ ও ২ অগাস্ট দক্ষিণবঙ্গে বড় কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি, তবে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে ৪৫ মিলিমিটার। এছাড়া পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমানে ৪২.২ মিলিমিটার, উত্তর ২৪ পরগনার দমদমে ৩৪.৭ মিলিমিটার, পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডায় ৩৩.৮ মিলিমিটার এবং পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে ২৮.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এদিকে কলকাতার আলিপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫.৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৯ শতাংশ, যার ফলে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি পুরোপুরি কাটেনি।

মৌসুমী বৃষ্টির সামগ্রিক চিত্র ও ঘাটতির হিসাব

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মরশুমে ১ জুন থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যে গড় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে তারতম্য স্পষ্ট। উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হলেও, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পুরুলিয়া, নদিয়া ও উত্তর দিনাজপুরে এখনও ঘাটতি বজায় রয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদদের আশা, আগামী কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে।

‘প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ইনফ্লুয়েন্সার হোন মোদী’, তীব্র কটাক্ষ আরশোলা নেতার

সল্টলেকে দম্পতির রহস্যমৃত্যু! বাড়ি থেকে উদ্ধার ষাটোর্ধ্ব স্বামী-স্ত্রীর নিথর দেহ