তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেনের কারখানায় জিএসটি টিমের হানা, চলল টানা তল্লাশি

কলকাতা: জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেনের সুতির অরঙ্গাবাদে অবস্থিত প্রোডাকশন অফিসে মঙ্গলবার গভীর রাতে হানা দেয় জিএসটি টিম। সিআরপিএফ জওয়ানদের সহায়তায় বেশ কয়েকজন জিএসটি আধিকারিক…

কলকাতা: জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেনের সুতির অরঙ্গাবাদে অবস্থিত প্রোডাকশন অফিসে মঙ্গলবার গভীর রাতে হানা দেয় জিএসটি টিম। সিআরপিএফ জওয়ানদের সহায়তায় বেশ কয়েকজন জিএসটি আধিকারিক প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে অফিসের নানা দিক খতিয়ে দেখেন। সূত্রের খবর, অভিযানের লক্ষ্য ছিল চলতি আর্থিক বছরে ট্যাক্স সংক্রান্ত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখা৷ ওই দফতর থেকে বেশ কিছু নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তল্লাশির পর ক্ষোভ প্রকাশ করে জাকির হোসেন বলেন, “অফিসাররা তাঁদের কাজ করেছেন, আমি সহযোগিতা করেছি। আট ঘণ্টা ধরে আমি সেখানেই ছিলাম। আমি সবসময় আইন মেনে ব্যবসা করি, নিয়মিতভাবে জিএসটি ও আয়কর পরিশোধ করি। আমাদের কারখানায় প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন, যারা এই তল্লাশির পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাঁদের রুটিরুজি নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।”

Advertisements

এই তল্লাশি কি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত? প্রশ্নের জবাবে জাকির বলেন, “আমি জানি না, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না। তবে আমি কেন্দ্রীয় সরকারের উপর আস্থা রাখি, তারা যদি টিম পাঠায়, আমি সাধ্যমতো সহযোগিতা করব। তবে যদি একটি চিঠি আসে, সেটা সবথেকে ভাল হবে, কারণ আমার শ্রমিকরা ভয় পাচ্ছেন যে, তাঁদের কাজ চলে যেতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “এর আগে, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আয়কর দফতরও আমার অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল। তবে আমি নিয়ম মেনে কাজ করি, এবং যদি আমাকে ডাকা হয়, আমি অবশ্যই উপস্থিত হব। এখনও পর্যন্ত আমাকে ডাকা হয়নি, তবে আমি আশা করি যে, অফিসাররা সঠিক রিপোর্ট দেবেন যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”

এই তল্লাশি অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক শঙ্কা উত্থাপন হলেও, জাকির হোসেন জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি কোনো ধরনের ভয় বা চাপ অনুভব করছেন না এবং সব ধরনের সহযোগিতায় প্রস্তুত।