কলকাতা: বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে ফের বড়সড় অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। শনিবার সকাল থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে রণংদেহি মেজাজে দেখা গেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে। হাবড়ার সুভাষ রোড, শ্রীনগর ও জয়গাজি-সহ মোট ৯ জন চাল ও গম ব্যবসায়ীর বাড়ি এবং ১৭টি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি।
তদন্তের নিশানায় ১৬ কোটির গম পাচার
ইডির এই তৎ্পরতার মূলে রয়েছে কোভিডকালের একটি পুরনো মামলা। সূত্রের খবর, সেই সময় এফসিআই (FCI) থেকে আসা প্রায় ৫ হাজার টন গম বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা হয়েছিল। শুল্ক দফতর ১৭১টি ট্রাক আটকে প্রায় ১৬ কোটি টাকার গম উদ্ধার করেছিল। রাজ্য পুলিশের থেকে এই মামলার তদন্তভার নেওয়ার পর ইডি জানতে পারে, এক্সপোর্টার বা রপ্তানিকারক হিসেবে এই ব্যবসায়ীরা ভুয়ো নথি ব্যবহার করে মোটা টাকা কামিয়েছিলেন। সুভাষ রোডের রাজীব সাহা, পার্থ সাহা এবং জয়গাজির সমীর চন্দ্রের মতো হেভিওয়েট ব্যবসায়ীদের বাড়িতে এখন চলছে নথিপত্র পরীক্ষা।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জ্যোতিপ্রিয় কানেকশন ED raids over ration scam
হাবড়ায় ভোট আগামী ২৯ এপ্রিল। কাকতালীয়ভাবে, রেশন দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (বালু) এবারও এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী। তিনি খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালীনই এই বিপুল পরিমাণ গম রপ্তানির নামে নয়ছয় হয়েছিল বলে অভিযোগ। ভোটের মাত্র তিন দিন আগে তাঁর খাসতালুকে ইডির এই ম্যারাথন তল্লাশিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রবল চাপনউতোর তৈরি হয়েছে।
এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়াকড়ি
এদিন সকালে ইডি আধিকারিকদের সঙ্গে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা হাবড়ার বিভিন্ন এলাকা ঘিরে ফেলেন। ব্যবসায়ীদের বাড়ি ও অফিসের বাইরে সশস্ত্র জওয়ানদের পাহাড়ায় এলাকায় রীতিমতো উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, ধৃত মন্ত্রীর সঙ্গে এই ব্যবসায়ীদের কোনও আর্থিক লেনদেন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখাই এখন মূল লক্ষ্য।




















