কলকাতা: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পশ্চিমবঙ্গে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। (ED raids)আজ সোমবার সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শিলিগুড়ি, হাওড়া, বিধাননগর এবং দুর্গাপুর। এই তল্লাশি একটি অবৈধ কল সেন্টার সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, এই কল সেন্টারগুলো বিদেশি নাগরিকদের ঠকিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল এবং সেই অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত।
ইডির সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযান প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর অধীনে চলছে। তল্লাশির সময় কয়েকজন ব্যক্তির নাম সামনে এসেছে সুরশ্রী কর, সম্রাট ঘোষ, সুভজিৎ চক্রবর্তী সহ আরও কয়েকজন। এঁদের বাড়ি-অফিসে ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। ডকুমেন্ট, কম্পিউটার, হার্ড ডিস্ক, মোবাইল এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ ভোট বঙ্গে কলকাতার সিপি-রাজ্য পুলিশের ডিজি বদল কমিশনের
অভিযানের সময় কিছু জায়গায় স্থানীয় পুলিশও সঙ্গে রয়েছে।শিলিগুড়িতে তল্লাশি হচ্ছে স্বপন ঘোষের বাড়িতে। স্বপন ঘোষ একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। তাঁর শোরুম রয়েছে বিধান মার্কেটে। শিলিগুড়ির হাকিমপাড়া এলাকার দুধ মোড়ের কাছে ওয়ার্ড নম্বর ১৫-এ তাঁর বাড়িতে ইডি আধিকারিকরা সকাল থেকে তল্লাশি চালাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই তল্লাশিতে কয়েকটি ভিডিও ফুটেজও সামনে এসেছে আধিকারিকরা বাড়ির ভিতরে ঢুকে বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করছেন, কাগজপত্র দেখছেন।
শিলিগুড়িতেই ১৫টি জায়গায় তল্লাশির খবর পাওয়া গেছে, যদিও সামগ্রিকভাবে রাজ্যে ১০টি প্রধান স্থান উল্লেখ করা হয়েছে।এই অবৈধ কল সেন্টারগুলোর কার্যকলাপ নিয়ে ইডির তদন্ত চলছে কয়েক মাস ধরে। অভিযোগ, এরা বিদেশি (বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ান বা অন্যান্য দেশের) নাগরিকদের ফোন করে নিজেদের টেক সাপোর্ট বা সরকারি এজেন্সির প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেয়।
তারপর রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপ ব্যবহার করে কম্পিউটারে ঢুকে টাকা হাতিয়ে নেয় বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি করে। এই ধরনের স্ক্যামে লক্ষ লক্ষ টাকা লুট হয়েছে। অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে বলে সন্দেহ। কিছু ক্ষেত্রে এই অর্থ রাজনৈতিক ফান্ডিং বা অন্যান্য অবৈধ কাজে ব্যবহার হয়েছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই অভিযান রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তুলেছে।
বিজেপি নেতারা বলছেন, এটা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রের কড়া অবস্থানের প্রমাণ। তৃণমূলের তরফে এখনও সরাসরি প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে দলের কয়েকজন নেতা বলছেন যে, কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া কেউ বলছেন, সাইবার ক্রাইমের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ দরকার, আবার কেউ সন্দেহ করছেন যে এর পিছনে অন্য কোনও ছক রয়েছে।



















