বিধানসভায় শুভেন্দু-শোভনদেব বাগ্‌যুদ্ধ! ঘরছাড়াদের ফেরাতে কড়া শর্ত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিধানসভায় বসেছিল বিশেষ অধিবেশন। কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার নির্বাচিত হলেও, অধিবেশনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়াল ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Bengal Speaker election post poll violence clash

কলকাতা: অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিধানসভায় বসেছিল বিশেষ অধিবেশন। কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার নির্বাচিত হলেও, অধিবেশনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়াল ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজা। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাগ্‌যুদ্ধে প্রথম দিনেই তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভা। (Bengal Speaker election post poll violence clash)

শুভেন্দু-শোভনদেব দ্বৈরথ

বক্তব্য রাখতে উঠে রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তোলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিজেপির নির্বাচনী স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ভয় নয় ভরসা বলেছিলেন, কিন্তু আজ ভয় চারগুণ বেড়েছে। মানুষ ঘরছাড়া। দেশে স্বেচ্ছাচারী শাসকের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।”

   

পাল্টা জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান, তাঁর কাছে কেউ ঘরছাড়া হওয়ার খবর নেই। তবে তিনি একটি শর্তও দেন। শুভেন্দু বলেন, “২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসে যে সাড়ে ১২ হাজার এফআইআর হয়েছিল, তাতে নাম না থাকলে স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ সুপার গিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেবেন। কিন্তু এফআইআর-এ নাম থাকলে জেলে যেতে হবে।”

বিস্ফোরক নওশাদ সিদ্দিকি

এদিন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও সরব হন। প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “২০২১ সালে জিতে মনে হয়েছিল পদত্যাগ করি, তাতে যদি আমাদের কর্মীরা বাঁচে।” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, চিঠি লিখলেও কোনো জবাব মিলত না। তবে বিজেপিকে ‘দরাজ সার্টিফিকেট’ না দিলেও অহেতুক বিরোধিতা করবেন না বলে জানান তিনি।

স্পিকার নির্বাচন ও পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন

এদিন রথীন্দ্র বসু স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়। আশা করি বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হবে না এবং বিরোধী দলনেতাকে মাসের পর মাস বিধানসভার বাইরে রাখা হবে না।” প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়, চন্দনা বাউড়ি এবং সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানও স্পিকারকে অভিনন্দন জানান। আগামী ১৮ জুন রাজ্যপাল আর এন রবির ভাষণের পর পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশন শুরু হবে।

শুভেন্দুর ইস্তফা ও উপনির্বাচন

এদিন আরও একটি বড় পদক্ষেপ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম মেনে তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন নিশ্চিত হলো। একইভাবে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর থেকে ইস্তফা দিয়েছেন হুমায়ুন কবীরও।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google