বারুইপুর কাণ্ড: মমতা কি যেতে পারবেন? ঘিরে ফেলা হল বাড়ি, ধর্ষণ-খুনে ধৃত ৩

কলকতা: বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। রবিবার সকালে পুকুর থেকে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর…

কলকতা: বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। রবিবার সকালে পুকুর থেকে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। এই ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত ৩ জনকে আটক এবং ২ জনকে গ্রেফতার করেছে। খুনের কিনারা করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে রাজ্য সরকার। (Baruipur minor girl death case)

কী ঘটেছিল?

সূত্রের খবর, শনিবার নিখোঁজ হওয়ার পর রবিবার সকালে বাড়ির কাছে একটি পুকুর থেকে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। দেহ উদ্ধারের সময় এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় এক যুবককে গণপিটুনিতে খুনের অভিযোগও উঠেছে। পুলিশের দাবি, ওই যুবক স্থানীয় এক অটোচালক, যার অটোতেই শনিবার বিকেলে কিশোরীকে শেষবার দেখা গিয়েছিল।

   

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি

এই ঘটনায় মোট তিনটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে৷  নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলা। গণপিটুনিতে যুবককে খুনের মামলা এবং  পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ৷ আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বারুই জানিয়েছেন, অপরাধীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। ইতিমধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং ধর্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট হবে। সেই অনুযায়ী ধৃতদের বিরুদ্ধে ধারাসমূহ পরিবর্তন করা হবে।

রাজনৈতিক উত্তাপ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাজ্য রাজনীতি সরগরম। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি পুলিশি ব্যারিকেডে ঘিরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালেও কালীঘাটে সেভাবে কোনও পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর দেখা মেলেনি। তবে, সকাল ৯টা বাজতেই ধীরে ধীরে পুলিশ কর্মীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। সেইসঙ্গে কালীঘাটের বাড়ি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

রবিবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তাঁকে নজরবন্দি করা হয়েছে৷ দলে দলে নেতা-নেত্রীরা কালীঘাটে যেমন পৌঁছন, তেমন বাড়তে থাকে পুলিশের সংখ্যাও৷

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রবিবারই নিহত কিশোরীর বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। মঙ্গলবার পরিবারকে ভবানীভবনে তলব করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

সারা রাজ্য জুড়ে এই ঘটনা নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশের ওপর আস্থা হারিয়ে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। সিট (SIT) কত দ্রুত অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনতে পারে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।