কলকাতা: ২০১৩ সালের কামদুনি গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তে বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ফের এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করার দাবি জানালেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগীর পরিবার যে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত, তা স্পষ্ট করে তিনি জানান, তৎকালীন সরকারের আমলে পরিচালিত তদন্তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব, কামদুনি মামলার ফাইলটি পুনরায় খোলা হোক। আগের সরকার যেভাবে তদন্ত পরিচালনা করেছিল, তাতে সত্য সামনে আসেনি। তাই নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।’’
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৭ জুন বারাসতের কাছে কামদুনি গ্রামে বিএ দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এক কলেজছাত্রীকে অপহরণ করে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হলেও, তদন্তের মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। নির্যাতিতার ভাইয়ের অভিযোগ, সিআইডির চার্জশিটে তদন্তের মূল গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ‘‘আমার বোনের শরীরে যে ভয়াবহ আঘাতের চিহ্ন ছিল, পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বা নাভি পর্যন্ত চিরে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনার উল্লেখ সিআইডির রিপোর্টে ছিল না।’’
২০১৬ সালে নিম্ন আদালত এই মামলায় রায় দিলেও পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্ট বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে খালাস করে দেয় এবং মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন। নির্যাতিতার পরিবারের সদস্য ও সমাজকর্মী প্রমীলা বিশ্বাসের মতো ব্যক্তিত্বরাও কামদুনির ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পুনর্তদন্তের দাবি সমর্থন করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও ভুক্তভোগীর পরিবার ন্যায়বিচার পায়নি।’’
এই মামলা নতুন করে খোলার দাবির পাশাপাশি, কামদুনির ঘটনার সঙ্গে বরুণ বিশ্বাস হত্যার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোও এখন নতুন করে সামনে আসছে। ২০০০ সালে সুটিয়া অঞ্চলে অপরাধমূলক কাজকর্ম ও গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে গঠিত সুটিয়া গণধর্ষণ প্রতিবাদ মঞ্চের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। ২০১২ সালের ৫ জুলাই তাকে তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আশ্রিত দুস্কৃতি দ্বারা গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ৷ বরুণের দিদি প্রমীলা বিশ্বাস বলেন, ‘ভাইয়ের হত্যার বিচার চেয়ে আমি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছি। সিআইডির কাছেও সমস্ত নথি জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা বরুণের হত্যার বিচার চাই।’ তাঁর দাবি, ‘জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক খুন করিয়েছিল। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাঁরা এখন সবাই জামিনে মুক্ত।’





