বাবান আদক, কলকাতা: ৫ গোল, ২ পেনাল্টি, ১টি লাল কার্ড এবং দশ জনের এক মহাকাব্যিক লড়াই! ১১১ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস স্নায়ুযুদ্ধে আয়োজক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। সেই সঙ্গে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ১৯৮৬ সালের মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’-এর সেই তিক্ত স্মৃতিও যেন কিছুটা মুছে ফেললেন হ্যারি কেনরা।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে সাত হাজার ফুট উচ্চতায়, ৮০ হাজার মেক্সিকান সমর্থকের গর্জনের সামনে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। প্রথম ৩০ মিনিট মেক্সিকোর একচেটিয়া দাপট একাই সামলান ইংরেজ গোলরক্ষক জর্ডন পিকফোর্ড। কিন্তু ৩৬ মিনিটের পর থেকে আজতেকায় আছড়ে পড়ে ‘বেলিংহ্যাম ঝড়’। খেলার গতির বিপরীতে বুকায়ো সাকার নিখুঁত ক্রস থেকে দুরন্ত হেডে প্রথম গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। মেক্সিকো সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই, মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে অ্যান্টনি গর্ডন ও কেনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে গোটা স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেন তিনি।
বিরতির ঠিক আগে ফ্রি-কিক থেকে জুলিয়ান কিনোনেসের গোলে ম্যাচে ফেরে মেক্সিকো। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে ইংল্যান্ড সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায়। ভার (VAR) দেখে জ্যারেল কোয়ানসাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ১০ জন হয়ে যাওয়ার পর বাধ্য হয়েই রক্ষণাত্মক কৌশল নেন টুখেল। তবে প্রতি-আক্রমণে উঠে ঠিকই পেনাল্টি আদায় করে নেন দুর্দান্ত খেলতে থাকা গর্ডন। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। এটি চলতি বিশ্বকাপে তাঁর ষষ্ঠ গোল।
নাটকের তখনও বাকি ছিল। বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন খোদ কেন! ফলে পেনাল্টি থেকে গোল করে মেক্সিকোর হয়ে ব্যবধান ৩-২ করেন রাউল হিমেনেজ়। তবে শেষ ২০ মিনিট দশ জনের ইংল্যান্ড যে ইস্পাতকঠিন রক্ষণ তৈরি করেছিল, তা আর ভাঙতে পারেনি আয়োজকরা।
কানাডার পর দ্বিতীয় আয়োজক দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল মেক্সিকো। অন্যদিকে, সব প্রতিকূলতা জয় করে শেষ আটে ওঠা ইংল্যান্ডের পরবর্তী প্রতিপক্ষ এবার আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে, যাঁরা সদ্যই ব্রাজিলকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছে।





