কলকাতা: ‘সকালে ধরব বিকেলে খরচ করে দেব,’ (Baruipur)সরকারে আসার আগেই নির্বাচনী প্রচারে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারে আসার ২ মাসের মধ্যেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেন তিনি। বারুইপুর নাবালিকা হত্যা কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে এনকাউন্টার করে বিরোধীদের মুখ কার্যত বন্ধ করে দিলেন তিনি।
মঙ্গলবার রাত ১২-৪৫ নাগাদ ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয় প্রভাসকে। সেখানেই এক সব ইন্সপেক্টরের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় প্রভাস। তার পরিবর্তে প্রভাসকে লক্ষ্য করে গুলি চালান আরেক সব ইন্সপেক্টর অর্ঘ মন্ডল। একটি গুলি লাগে তার বুকে অন্যটি কোমরে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রভাসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ডাক্তাররা। মাঝ রাতের এই অপারেশনেই সরব রাজ্যের রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলের একাংশ।
আরও দেখুনঃ ‘নিজের পাপের সাজা পেয়েছে’, ছেলের মৃতদেহ নিতে অস্বীকার বারুইপুরে অভিযুক্তের মা
তাদের মতে ধর্ষণে অভিযুক্তের সঠিক শাস্তি দিয়েছে প্রশাসন। প্রত্যেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন বাংলায় রীতিমত নজির সৃষ্টি হল এই এনকাউন্টারের মধ্যে দিয়ে। তারা বলেছেন গত বাম এবং তৃণমূল জমানায় একজন ধর্ষণকারীরও উপযুক্ত শাস্তি হয়নি। যদিও বাম আমলে হেতাল পারেখ ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডে ফাঁসি হয়েছিল অভিযুক্ত ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের।
যদিও তারপর এই শাস্তি নিয়ে অনেক বিতর্ক তৈরী হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল জমানায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বারবার দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। হাঁসখালি কাণ্ডে মমতা প্রেমের সম্পর্ক বলে ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন, কামদুনি কাণ্ডে শাস্তি বিধান না করে মমতা মৌসুমী এবং টুম্পা কয়ালকে মাওবাদী বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন মমতা এমনটাও অভিযোগ করেছেন তারা।
আরও দেখুনঃ শোপিয়ানে ভারতীয় সেনার এনকাউন্টারে ৭২ হুর পেল লস্করের শীর্ষ কমান্ডার গনি
আরজিকর কাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তারা অভিযোগ করেছেন অভিযুক্তদের চিহ্নিত না করে প্রাইজ পোস্টিঙের ব্যবস্থা করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বারুইপুরের এই নৃশংস হত্যা কান্ডেও বাম এবং তৃণমূল বর্তমান বিজেপি সরকারকে দোষারোপ করছিল প্রত্যেকদিন।
কিন্তু নিজের কর্তব্যে অনড় ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, তিনি বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবেন। গতকাল রাতের এই এনকাউন্টার যেন শুধু প্রভাসকেই নয় মুখ বন্ধ করে দিল বারংবার প্রশ্ন বানে জর্জরিত করা সেকু-মাকুদেরও এবং রাজনৈতিক হোক বা সামাজিক মহল প্রত্যেকেই বলেছেন এই দৃষ্টান্তের প্রয়োজন ছিল যাতে ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘৃণ্য কাজ করার আগে তাদের বুকে কাঁপন ধরে।
আরও দেখুনঃ ‘নরেন্দ্র মোদীরও পালা আসবে, তাকেও ভাঙবে জনগণ!’ বিতর্কিত বক্তব্য বদরুদ্দিনের





