গুয়াহাটি: অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড(Badruddin)ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (AIEUDIF) প্রেসিডেন্ট মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল একটি স্পষ্ট ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। গুয়াহাটিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পালা আসবে। জনগণ তাঁকেও ভেঙে দেবে। আমাদের ভয় পাওয়া উচিত নয়।
রাহুল গান্ধী যে ইন্ডি জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেই জোটকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।”আজমল আরও বলেন, “রাহুল গান্ধী যদি বাংলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করতেন, তাহলে হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অবস্থায় পড়তেন না। জোট থাকলে সেখানে যাওয়া উচিত নয়।” তাঁর এই বক্তব্য বিরোধী রাজনীতির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে আবার সামনে এনেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও দেখুনঃ সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে মৃত্যুর মুখে মৎসজীবি! এয়ারলিফট করে প্রাণ বাঁচাল ভারতীয় নৌবাহিনী
মৌলানা আজমলের বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি বিজেপি-বিরোধী জোটকে আরও মজবুত করার পক্ষে। তিনি বলেন, জনগণের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত এই ক্ষোভ ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে যাবে। আজমলের এই মন্তব্য আসামের রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এআইইউডিএফ রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটের একটি বড় অংশ প্রভাবিত করে। তিনি ইন্ডিয়া জোটের মধ্যে ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন এবং বলেছেন, জোটের মধ্যে বিভেদ থাকলে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন হয়ে পড়বে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ টেনে আজমল বলেন, রাহুল গান্ধী যদি বাংলায় প্রার্থী না দিতেন, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এতটা চাপে পড়তে হত না। তাঁর এই মন্তব্য তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তুলেছে। বাংলায় ইন্ডিয়া জোটের সম্পর্ক ইতিমধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। আজমলের বক্তব্য সেই টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করেছে।
আরও দেখুনঃ ইন্দোনেশিয়া থেকে ভারতে আসবে দুর্লভ খনিজ! মোদীর সফরে প্রযুক্তির দৌড়ে এগিয়ে ভারত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আজমলের এই বক্তব্য আসন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ। তিনি সংখ্যালঘু ভোটকে একত্রিত করে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে রাখতে চাইছেন। অসমে এআইইউডিএফের প্রভাব বিবেচনায় তাঁর কথার ওজন অনেক। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁর বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক উসকানি’ বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ সিআইএ এজেন্ট পরিচয় দিয়ে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি! ইন্দোনেশিয়ায় ধরা পড়ল ভারতীয় ব্যবসায়ী
বিজেপি নেতারা বলছেন, মোদী সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের বিরুদ্ধে বিরোধীরা কোনো যুক্তি দিতে না পেরে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে।কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য আজমলের বক্তব্যকে স্বাগত জানানো হয়েছে। দলের নেতারা বলছেন, ইন্ডিয়া জোটকে আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এখনও আজমলের বক্তব্য নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। আজমলের মন্তব্য সেই আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে।




