কলকাতা: খবরের শিরোনামে এখন বীরভূমের ‘পাথর সম্রাট’ টুলু মণ্ডল। সাধারণ এক দিনমজুর থেকে কীভাবে তিনি শতকোটির মালিক হয়ে উঠলেন, তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। অভিযোগ উঠছে, বীরভূমের তৎকালীন তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের (কেষ্ট মণ্ডল) ছত্রছায়াতেই নাকি পাথর ও বালির অবৈধ কারবারের জাল ছড়িয়েছিলেন টুলু। আর বারবার নিজের নাম এই বিতর্কে জড়ানোয় এবার চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে মুখ খুললেন খোদ অনুব্রত। সাফ জানিয়ে দিলেন, তাঁর মানহানি করা হচ্ছে এবং তিনি এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ তথা মানহানির মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কী বলেছেন অনুব্রত মণ্ডল?
টুলুর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বর্তমান তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই এবং এই বিষয়ে তিনি কিচ্ছু জানেন না। ক্রুদ্ধ সুরে অনুব্রত বলেন, ”টুলু মণ্ডলকে অনুব্রতর ঘনিষ্ঠ বলা হচ্ছে। টুলু মণ্ডলকে কে চেনে না? এভাবে ঘনিষ্ঠ বলার জন্য মানহানির মামলা করব। আর ছেড়ে কথা বলব না। সব প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
একইসঙ্গে রাজস্ব ফাঁকি বা পাথর সিন্ডিকেট চালানোর সমস্ত দায় প্রশাসনের ওপর চাপিয়ে অনুব্রত আরও বলেন, “সরকারের রাজস্ব কত উঠছে, সেটা জেলাশাসক দেখতেন। আমি কি সরকারের মন্ত্রী ছিলাম নাকি, যে আমি দেখতাম? সবটাই জেলাশাসক জানত।”
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে?
তদন্তকারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০০ সালের আগের সময়টাতেও পাথল ভাঙার ক্রাশারে সামান্য দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন টুলু মণ্ডল। এরপর ২০১০ সাল নাগাদ পুরোপুরি পাথরের ব্যবসায় নামেন তিনি। ধীরে ধীরে শত শত লরির মালিক হয়ে ওঠেন টুলু। অভিযোগ রয়েছে, এই সময় কালেই বীরভূমের তৎকালীন ক্ষমতাধর নেতা অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। অনুব্রতর আশীর্বাদ মাথায় থাকায় জেলার একাধিক টোলগেট দেখভালের দায়িত্ব চলে আসে টুলুর হাতে। মোট সাতটি লাভজনক টোলগেট তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের অনুমান, অনুব্রতর সান্নিধ্য পাওয়ার পরেই তাঁর আর্থিক প্রতিপত্তি এবং ব্যবসার পরিধি আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে।
তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে অনুব্রত মণ্ডল জানিয়ে দিয়েছেন, এই দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর দূরদূরান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। টুলুর উত্থানের নেপথ্যে তাঁর হাত থাকার তত্ত্বকে সম্পূর্ণ খারিজ করে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
২০২৮ থেকে রাজ্যের স্কুলে নতুন সিলেবাস, NEP 2020 অনুযায়ী বড় পরিবর্তন
পরপর পাঁচ দিন চরম দুর্যোগের পূর্বাভাস, কোন জেলাগুলিতে চোখ রাঙাচ্ছে বৃষ্টি?





