তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ঘিরে সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। তারই মধ্যে নতুন করে পারুলিয়া কোস্টাল থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি। তাঁর অভিযোগ, সেবাশ্রয় প্রকল্পে ব্যবহৃত ওষুধ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং সেই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসতে পারে।
আরও পড়ুন: দক্ষিণবঙ্গে কিছুটা কমেছে বৃষ্টির তেজ, কেমন থাকবে কলকাতা?
সোমবার (Abhishek Banerjee) সন্ধ্যায় পারুলিয়া কোস্টাল থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর সহযোগী সুমিত রায়, তৎকালীন জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কয়েকজন আধিকারিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সেবাশ্রয় প্রকল্পে ব্যবহৃত ওষুধের ক্রয়, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তি নিয়ে গুরুতর অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে পারে।
আরও পড়ুন: ইডি স্ক্যানারে তৃণমূলের তহবিল, মঙ্গলের সকাল থেকেই কলকাতার ৫ জায়গায় তল্লাশি
বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববির অভিযোগের অন্যতম ভিত্তি গত ১০ জুনের একটি ঘটনা। তাঁর দাবি, ওই দিন ডায়মন্ড হারবারের সরিষা ও হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পরে পারুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার হওয়া ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে। তবে অভিযোগকারীর দাবি, নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পুলিশ সেই ঘটনায় কোনও এফআইআর দায়ের করেনি বা নিয়মিত মামলা রুজু করেনি।
এই ঘটনাকেই সামনে রেখে নতুন অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিজিৎ দাস ববি। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র উদ্ধার হওয়া ওষুধের উৎস বা মালিকানা নয়, কেন এত বিপুল পরিমাণ ওষুধ মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, সেবাশ্রয় প্রকল্পে ওষুধ কেনা এবং তার ব্যবহার নিয়ে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণেই উদ্ধার হওয়া ওষুধের ফরেনসিক ও প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনের পর ডায়মন্ড হারবারের সরিষা ও হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধারের ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলে। উদ্ধার হওয়া ওষুধের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, এত বিপুল পরিমাণ ওষুধ কেন মাটির নিচে ফেলে রাখা হয়েছিল। এই ওষুধগুলি মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল কি না, নষ্ট হয়ে গিয়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনও কারণে তা মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল তা নিয়েও শুরু হয় জোর বিতর্ক।
আরও পড়ুন: মেসিকাণ্ড: ফের বিধাননগর থানায় হাজিরা অরূপ বিশ্বাসের
অভিযোগকারীর দাবি, যদি ওষুধগুলি সরকারি প্রকল্পের জন্য কেনা হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলির যথাযথ হিসাব থাকা উচিত। আর যদি সেগুলি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে থাকে, তাহলে সরকারি নিয়ম মেনে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। তাঁর বক্তব্য, মাটির নিচে ওষুধ পুঁতে রাখার ঘটনায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।





