নয়াদিল্লি: বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী সোমবার (Energy Independence)একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন চিনা বিদেশি লবিগুলো ভারতকে কৌশলগত জ্বালানি স্বাধীনতা অর্জন করতে দিতে চায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইথানল-ব্লেন্ডেড পেট্রোল (ইবিপি) প্রোগ্রাম ভারতের শক্তি খাতে একটি বড় সাফল্য এবং এটি দেশের অর্থনীতি, কৃষক ও পরিবেশের জন্য ইতিবাচক।
গত তিন বছরে দেশের ২০ কোটিরও বেশি দুই চাকার যানবাহন এবং ৩০ লাখ চার চাকার যানবাহন এই মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার হয়েছে, কিন্তু কোনো ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেছেন।প্রদীপ ভাণ্ডারী বলেন, “চিনা লবিরা ভারতের মতো বড় দেশকে জ্বালানিতে স্বনির্ভর হতে দেখতে চায় না। কারণ তাহলে তাদের প্রভাব কমে যাবে।”
আরও দেখুনঃ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নয়া উদ্বেগ! সক্রিয় হচ্ছে রোহিঙ্গাদের জঙ্গি বাহিনী স্পেশাল ফোর্স
তিনি আরও যোগ করেন যে, ইথানল ব্লেন্ডিং প্রোগ্রামটি শুধু জ্বালানি আমদানি কমাচ্ছে না, বরং দেশের কৃষকদের আয় বাড়াচ্ছে এবং পরিবেশ দূষণও কমাচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভারত ক্রমশ জ্বালানি খাতে আত্মনির্ভর হওয়ার পথে এগোচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।সরকারি তথ্য অনুসারে, ইথানল ব্লেন্ডিং প্রোগ্রামটি ২০১৮ সাল থেকে জোরদারভাবে চালু হয়েছে।
বর্তমানে পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এই ইথানল প্রধানত চিনি কল থেকে উৎপাদিত হয়, যা দেশের চিনি শিল্প এবং কৃষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। কৃষকরা অতিরিক্ত আখ বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করছেন। অনেক কৃষক পরিবার জানিয়েছেন, এই প্রোগ্রামের কারণে তাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আরও দেখুনঃ মোদী সফরে চমক! ইন্দনেশিয়ার নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনতে ব্যবহার হবে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ EVM
প্রদীপ ভাণ্ডারী আরও জানান, গত তিন বছরে বিপুল সংখ্যক যানবাহনে ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহার করা সত্ত্বেও কোনো বড় ধরনের ইঞ্জিন সমস্যার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এটি প্রমাণ করে যে, আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ইঞ্জিনগুলো এই মিশ্রণ সহজেই মেনে নিতে পারছে। দুই-চাকার যানবাহন, যা দেশের অধিকাংশ মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষ ব্যবহার করে, তাদের জন্য এই জ্বালানি সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে।
ফলে সাধারণ মানুষের খরচ কমছে এবং পরিবেশও রক্ষা পাচ্ছে।এই প্রোগ্রামের আরেকটি বড় সাফল্য হলো অপরিশোধিত তেলের আমদানি হ্রাস। ভারত প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ টাকা তেল আমদানিতে খরচ করে। ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের ফলে এই আমদানি কমেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করেছে।
সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। একই সঙ্গে, ইথানল মিশ্রণের কারণে যানবাহন থেকে নির্গত দূষণকারী গ্যাস কমেছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, এটি শহরের বায়ুমান উন্নত করতে সাহায্য করছে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও ইতিবাচক।
আরও দেখুনঃ শাহজাদ ভাট্টির দুই জঙ্গি দল ভাঙল দিল্লি পুলিশ! শ্রীঘরে সলমন -দানিশ





