নয়াদিল্লি: সম্প্রতি একটি নতুন তথ্য সামনে এসেছে (Rohingya)যা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ‘স্পেশাল ফোর্স’ নামে একটি বিপজ্জনক মিলিট্যান্ট গ্রুপ বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে সক্রিয় হয়ে উঠছে। এই গ্রুপের অধিকাংশ সদস্য রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের মধ্য থেকে নেওয়া, যারা ‘মার্শাল আর্টস’ ট্রেনিংয়ের আড়ালে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং ধীরে ধীরে তাদের ফুট সোলজারদের ভারতের অভ্যন্তরে পাঠানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই গ্রুপটি সাধারণ মার্শাল আর্টস ক্লাব বা ফিটনেস সেন্টারের আড়ালে তরুণ রোহিঙ্গা যুবকদের শারীরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে ধীরে ধীরে সংগঠিত করছে। বাংলাদেশের কক্সবাজারের বিশাল শরণার্থী শিবিরগুলোতে এই ধরনের কার্যকলাপ চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ অস্ত্র থেকে ব্রহ্মোস: ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে বড় ইনিংস মোদীর
প্রশিক্ষিত সদস্যরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও অন্যান্য সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছে। এর পেছনে কোনো বড় সংগঠনের মদত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চাপ। ২০১৭ সালের পর থেকে কক্সবাজারে প্রায় দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।
এই শিবিরগুলোতে বিভিন্ন মিলিট্যান্ট গ্রুপের উপস্থিতির খবর আগেও পাওয়া গেছে। আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) সহ কয়েকটি সংগঠনের নাম এর আগে উঠে এসেছে। কিন্তু ‘স্পেশাল ফোর্স’ নামে নতুন এই গ্রুপটি আরও সংগঠিত ও গোপনীয় পদ্ধতিতে কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। তারা সাধারণ যুবকদের আকর্ষণ করতে শারীরিক ফিটনেস ও আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণের নাম ব্যবহার করছে, যা বাইরে থেকে দেখতে নিরীহ মনে হয়।
আরও দেখুনঃ শরদের দলে ভাঙনের গন্ধে ডিলিমিটেশনের অশনি সংকেত! মাত্র ৩৬ নম্বরের তফাতে NDA সরকার
ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী এই তথ্যকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও মিজোরাম সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে যেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনুপ্রবেশের খবর আগে পাওয়া গেছে, সেখানেও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ রুখতে এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এই ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। শরণার্থী শিবিরগুলোতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের মিলিট্যান্ট কার্যকলাপ না ছড়াতে দেওয়া তাদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে শিবিরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। তবে শিবিরের ভেতরের জটিল পরিস্থিতি এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের কারণে এটি সহজ কাজ নয়।
আরও দেখুনঃ শেষ হল আশা! ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসে হেরে গেলেন জালিয়াত মোদী




