নয়াদিল্লি: লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস তথা ডিলিমিটেশন (Delimitation)প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। এনডিএ সরকার সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে চাইলে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (দুই-তৃতীয়াংশ) দরকার। পূর্ণ হাউসে অন্তত ৩৬২টি ভোট। বর্তমানে এনডিএ-র নিজস্ব শক্তি ২৯৪। তাই বিরোধী শিবির থেকে সমর্থন ছাড়া বিল পাশ করা কঠিন।
তবে তৃণমূল সহ বিরোধী দলগুলিতে সাম্প্রতিক ভাঙনের ঘটনায় এনডিএ-র হাত যথেষ্ট শক্ত হয়েছে।সবচেয়ে বড় চমক শিবসেনা (ইউবিটি)-তে। উদ্ধব ঠাকরের দলের ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ৬ জন এখন এনডিএ-র সমর্থনে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সঙ্গে যোগ দিয়ে তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আরও দেখুনঃ শাহজাদ ভাট্টির দুই জঙ্গি দল ভাঙল দিল্লি পুলিশ! শ্রীঘরে সলমন -দানিশ
এই ৬ জনের সমর্থন এনডিএ-র ঘাটতি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।আরও বড় ধাক্কা তৃণমূল কংগ্রেসে। দলের ২৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জন বিদ্রোহী হয়ে এনডিএ-কে সমর্থন করার জন্য আলাদা ব্লক তৈরি করেছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই গোষ্ঠী ডিলিমিটেশন বিলের পক্ষে ভোট দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আবার অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি থেকেও ৬ জন সাংসদ ডিলিমিটেশন ইস্যুতে এনডিএ সরকারকে সমর্থন করতে এগিয়ে এসেছেন। সব মিলিয়ে ইন্ডি জোটে বড় ফাটল।এর মধ্যেই শরদ পাওয়ারের এনসিপি থেকেও ভাঙনের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সূত্রের খবর, দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদ এনডিএ-র দিকে ঝুঁকতে পারেন। এই মুহূর্তে এনসিপিতে লোকসভার সংসদ সংখ্যা ৯ এবং রাজ্যসভায় ১। যদি এনসিপি থেকে অন্তত ৬ জন সমর্থন দেন তাহলে NDA র ভোট সংখ্যা হবে মোট ৩৩২। সেক্ষেত্রে আর বাকি থাকবে মাত্র ৩০ টি ভোট। এরপর কোনোভাবে যদি DMK NDA কে সমর্থন করে দেয় তবে তো কথাই নেই।
আরও দেখুনঃ শেষ হল আশা! ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসে হেরে গেলেন জালিয়াত মোদী
১৭ এপ্রিল লোকসভায় যখন এই বিল আনা হয়, তখন ৫২৮ জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। দুই-তৃতীয়াংশের নিয়মে ৩৫২টি ভোট দরকার ছিল। কিন্তু সরকার পায় মাত্র ২৯৮টি ভোট। ফলে বিল খারিজ হয়ে যায়। সেই ঘাটতি মেটাতে এখন এনডিএ-র আরও প্রায় ৬৮-৭০ জনের সমর্থন দরকার। বিদ্রোহী সাংসদদের সমর্থন পেলে সেই সংখ্যা সহজেই পূরণ হয়ে যাবে।
আরও দেখুনঃ নাম বদলে গেল জালালাবাদের! পরশুরামপুরী নামে শিলমোহর যোগীর
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়বে এবং জনসংখ্যার অনুপাতে পুনর্বিন্যাস হবে। এতে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে, দক্ষিণের রাজ্যগুলোর কমবে। তাই দক্ষিণের বিরোধী দলগুলো এর বিরোধিতা করছে। কিন্তু বিদ্রোহীদের সমর্থনে এনডিএ এখনও শক্ত অবস্থানে।




