নাম বদলে গেল জালালাবাদের! পরশুরামপুরী নামে শিলমোহর যোগীর

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন (Jalalabad)মন্ত্রিসভা সর্বসম্মতিক্রমে জালালাবাদের নাম পরিবর্তন করে পরশুরামপুরী করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ভারত সরকারেরও অনুমোদন মিলেছে। এই সিদ্ধান্তকে উত্তরপ্রদেশের সাংস্কৃতিক পুনরুজ্জীবনের…

jalalabad-renamed-parshurampuri

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন (Jalalabad)মন্ত্রিসভা সর্বসম্মতিক্রমে জালালাবাদের নাম পরিবর্তন করে পরশুরামপুরী করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ভারত সরকারেরও অনুমোদন মিলেছে। এই সিদ্ধান্তকে উত্তরপ্রদেশের সাংস্কৃতিক পুনরুজ্জীবনের আরেকটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব পাস হয়।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজে এই সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণ করা উচিত। জালালাবাদ নামটি একটি নির্দিষ্ট যুগের স্মৃতি বহন করত। পরশুরামপুরী নামের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রাচীন সনাতনী ঐতিহ্যকে সম্মান জানাচ্ছি।” পরশুরামপুরী নামটি হিন্দু পুরাণের বিখ্যাত ঋষি পরশুরামের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত।

আরও দেখুনঃ রাজ্যের মেয়েদের নিরাপত্তায় ‘জিরো টলারেন্স’! ধর্ষণ মামলায় তিনটি হোটেল বুলডোজার রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর

স্থানীয় ঐতিহাসিকরা জানান, এই অঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকেই সনাতনী সংস্কৃতির প্রভাব ছিল। অনেকের মতে, এলাকাটি পরশুরামের তপস্যা ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাই নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরই মন্ত্রিসভা এটি চূড়ান্ত করেছে।

এই প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নাম পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক কাজকর্ম, দলিলপত্র, সাইনবোর্ডসহ সবকিছু আপডেট করা হবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো অসুবিধা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। একজন স্থানীয় নেতা বলেন, “এটা শুধু নাম বদল নয়, আমাদের আত্মপরিচয় ফিরে পাওয়ার লড়াই।

আরও দেখুনঃ পহেলগাঁও কাণ্ডে হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে চার্জশিট NIA র! কড়া পদক্ষেপের পথে মোদী সরকার

জালালাবাদ নামটি মুঘল যুগের স্মৃতি বহন করত। পারশুরামপুরি নামে আমরা আমাদের শিকড়ের কাছে ফিরে যাচ্ছি।” অনেক সাধারণ মানুষও এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, এতে এলাকার সাংস্কৃতিক পরিচয় আরও স্পষ্ট হবে।তবে কিছু বিরোধী দল এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এ ধরনের নাম পরিবর্তন ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা।

সমাজের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, এতে সাম্প্রদায়িক বিভেদ বাড়তে পারে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তন কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং প্রাচীন ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করা।যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশে এর আগেও বেশ কয়েকটি জায়গার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এলাহাবাদ থেকে প্রয়াগরাজ, মিরাটের কাছে কয়েকটি জায়গা, ফৈজাবাদের নাম পরিবর্তনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের বার্তা দিয়েছে। জালালাবাদ থেকে পারশুরামপুরি নামকরণও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও দেখুনঃ বারুইপুর কাণ্ড: মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ, ধৃত বেড়ে ৩