এক বাড়িতে একাধিক প্রাপক? অন্নপূর্ণা যোজনার জটিলতা কাটাতে জানুন নতুন নিয়ম

কলকাতা: রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নাম বদলে হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। এই নতুন প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তাদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ১,৫০০ টাকা…

Annapurna Yojana Online Application

কলকাতা: রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নাম বদলে হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। এই নতুন প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তাদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা হয়েছে।

অনেকেই ইতিমধ্যেই অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়ে গেলেও, বড় একটি অংশের টাকা এখনও পৌঁছায়নি। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভেরিফিকেশনের কাজ শুরু করেছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। তবে টাকা না পাওয়া উপভোক্তাদের মধ্যে একটি প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে, বাড়িতে যদি একটিই ফোন নম্বর থাকে এবং অন্নপূর্ণা যোজনার দাবিদার একাধিক মহিলা থাকেন, তবে তাঁরা কীভাবে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন? এই বিভ্রান্তি দূর করতে সম্প্রতি বিস্তারিত দিশা দেখিয়েছেন ‘সহজ তথ্য মিত্র কেন্দ্র’-এর এক আধিকারিক।”

একই বাড়িতে একাধিক প্রাপক থাকলে কী করবেন?

‘সহজ তথ্য মিত্র কেন্দ্র’-এর আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একই বাড়িতে একাধিক মহিলা সদস্য অন্নপূর্ণা যোজনার যোগ্য হলেও তাঁদের পৃথকভাবে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে না। পরিবারের সকল সদস্যের তথ্য সম্বলিত একটি মাত্র ফর্মই পূরণ করতে হবে।

কীভাবে আবেদন করবেন?

ওই একটি ফর্মেই বাড়ির মোট সদস্য সংখ্যা, প্রধান সদস্যের নাম এবং প্রত্যেকের বয়স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।

 ফর্মে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরকারি স্তরে যাচাই করা হবে এবং সেই অনুযায়ী ওই বাড়িতে কতজন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তা নির্ধারণ করা হবে। একটি বাড়ির সদস্যদের জন্য যে কোনো একটি সচল ফোন নম্বর ব্যবহার করলেই চলবে।

ডিবিটি (DBT) লিঙ্ক বাধ্যতামূলক

টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) লিঙ্ক থাকা। ফর্ম ফিলাপের পাশাপাশি উপভোক্তাদের অবশ্যই নিকটস্থ ব্যাঙ্কে গিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যে তাঁদের অ্যাকাউন্টে ডিবিটি সক্রিয় আছে কি না। এটি ছাড়া সরকারি অনুদানের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হবে না।

কারা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না?

সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যারা করের আওতাভুক্ত বা নির্দিষ্ট কিছু পেশায় যুক্ত, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না-

যেসব মহিলা আয়কর (Income Tax) দেন।

কেন্দ্রীয়, রাজ্য সরকার, পঞ্চায়েত বা পৌরসভা বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থায় নিয়মিত কর্মরত মহিলারা।

পেনশনভোগী মহিলারা।

যাদের নিজস্ব তিনটির বেশি পাকা ঘর আছে।

আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ ও ভেরিফিকেশন

রাজ্য সরকার জানিয়েছে, পূর্বে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তাদের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে যে, প্রায় ২৭ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মৃত ব্যক্তি, যারা ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন বা যারা একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা পাচ্ছিলেন, তাদের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত উপভোক্তাদের ভেরিফিকেশনের কাজ করছেন।

শিলিগুড়িতে অবৈধ নির্মাণে বুলডোজার: নালা দখলমুক্ত করল পৌরনিগম

‘দেশ জুড়ে UCC র আদর্শ এমনই হওয়া উচিত!’ মত তথাগতের