কলকাতা: বঙ্গে লক্ষ্মীভান্ডারের পরিবর্ত হিসেবে বিজেপি সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা(annapurna bhandar)। এই যোজনার আওতায় প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৬ লক্ষেরও বেশি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এই সাফাই অভিযানকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। কারণ এতে জাল ও অযোগ্য সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং সত্যিকারের প্রয়োজনীয় মহিলারা এখন সঠিকভাবে সাহায্য পাচ্ছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে তৃণমূল আমলে লক্ষ্মীভান্ডার প্রকল্পে যথেচ্ছ চুরি হয়েছে। প্রাক্তন সরকার যাচাই বাছাই না করেই এই প্রকল্পের টাকা তুলে দিত মহিলাদের হাতে। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা গিয়েছে পুরুষরাও নাম ভাঁড়িয়ে এই প্রকল্পের টাকা নিয়েছে। শুধু তাই নয় বার্ধক্যভাতা এবং বিধবা ভাতাতেও এই জোচ্চুরি করা হয়েছে। তাই এবার বঙ্গের ডবল ইঞ্জিন সরকার সমস্ত নথি যাচাই করে তবেই প্রকল্পের টাকা তুলে দেবে মহিলাদের হাতে।
আরও দেখুনঃ বিতর্কিত মন্তব্যের জের, রেজিনগর থানায় হাজিরা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিশেষ তীব্র সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ায় অনেক নাম বাদ পড়েছে। কিছু আবেদন ছিল ডুপ্লিকেট, কেউ কেউ মারা গিয়েছেন, অনেকে অন্য জায়গায় চলে গেছেন, আবার কিছু ক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্ত পূরণ হয়নি। এই সব কারণে ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল হয়েছে। প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে যারা সত্যিই সাহায্যের যোগ্য, তাদের জন্য পথ আরও পরিষ্কার হয়েছে।ইতিমধ্যে এক কোটির বেশি যোগ্য মহিলা প্রথম কিস্তির তিন হাজার টাকা পেয়ে গেছেন।
আরও দেখুনঃ ১৯৯৩ র ২১ জুলাইয়ের হত্যার তদন্ত চেয়ে শুভেন্দুকে চিঠি কাকলির
এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল রাজ্যের দরিদ্র ও অসহায় মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া। প্রতি মাসে বা নির্দিষ্ট সময় অন্তর টাকা পেলে সংসার চালাতে সুবিধা হয়। কিন্তু আগে অভিযোগ ছিল যে অনেক অযোগ্য ব্যক্তি বা পরিবার এই সুবিধা ভোগ করছেন। ফলে বাজেটের একটা বড় অংশ নষ্ট হচ্ছিল। এই সাফাই অভিযানের ফলে সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও দেখুনঃ ডিলিট করা চ্যাট উদ্ধারে ফরেন্সিক সাহায্য, দেবরাজের তোলাবাজি-সাম্রাজ্যের খোঁজে সিট
রাজ্যজুড়ে এই অভিযানের প্রভাব ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে। গ্রামের অনেক মহিলা এখন আশায় বুক বাঁধছেন। যারা আবেদন করেছিলেন কিন্তু যোগ্যতা অনুযায়ী বাদ পড়েছেন, তাদের কাছেও আবার আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশিকা আসতে পারে। তবে যারা বৈধভাবে যোগ্য, তাদের টাকা দ্রুত পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


