ডিলিট করা চ্যাট উদ্ধারে ফরেন্সিক সাহায্য, দেবরাজের তোলাবাজি-সাম্রাজ্যের খোঁজে সিট

কলকাতা: বাগুইআটি, রাজারহাট থেকে গোপালপুর, এক সময় যাঁর নির্দেশ ছাড়া এলাকায় একটা পাতাও নড়ত না বলে অভিযোগ, সেই দাপুটে তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর এখন ঠিকানা…

কলকাতা: বাগুইআটি, রাজারহাট থেকে গোপালপুর, এক সময় যাঁর নির্দেশ ছাড়া এলাকায় একটা পাতাও নড়ত না বলে অভিযোগ, সেই দাপুটে তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর এখন ঠিকানা কারাগার। তোলাবাজি, হুমকি ও প্রোমোটিং চক্র চালানোর অভিযোগে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতে থাকা দেবরাজের মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে পাওয়া তথ্যে এখন তদন্তকারীদের কপালে ভাঁজ। অভিযোগ, গোয়েন্দাদের বিভ্রান্ত করতে তদন্তের আগেই মোবাইলের সমস্ত চ্যাট ডিলিট করে দিয়েছিলেন ধৃত তৃণমূল নেতা। (Debraj Chakraborty extortion case investigation)

ফোনে নেই তথ্য, ডিলিট করা চ্যাটই এখন বড় হাতিয়ার

দেবরাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। তদন্তে নেমে তাঁর বাড়ি থেকে যে মোবাইলটি উদ্ধার হয়েছে, তাতে কোনো তথ্যই খুঁজে পাচ্ছেন না আধিকারিকরা। সিট সূত্রে খবর, ফোনের চ্যাটগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে ডিলিট করা হয়েছে। এখন সেই ডিলিট করা তথ্য উদ্ধারের জন্য ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের দ্বারস্থ হচ্ছেন তদন্তকারীরা। কাদের সঙ্গে কথোপকথন চলত, তোলার টাকা কার কাছে পৌঁছত, চ্যাট উদ্ধার হলেই সেই রহস্যের জট খুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

   

ল্যাপটপে ‘ডিসি গ্লোবাল’-এর হদিশ

মোবাইলের পাশাপাশি দেবরাজের একটি ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করেছে সিট। সেখান থেকেই ‘ডিসি গ্লোবাল’ নামে এক সংস্থার নথিপত্র হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। রাজারহাট রোডের পৈত্রিক বাড়িতে বসেই এই সংস্থা চালাতেন দেবরাজ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই সংস্থার আড়ালেই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কেনা হয়েছিল। এই কোম্পানির আয়ের উৎস কী, ভিত্তিটাই বা কোথায়, তা খতিয়ে দেখতে ফরেন্সিক পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। সিটের এক আধিকারিক জানান, কোম্পানির যাবতীয় নথিপত্র এবং চ্যাট মুছে ফেলা হয়েছিল, যা থেকে স্পষ্ট যে এটি কোনো বৃহত্তর আর্থিক দুর্নীতির অংশ।

‘রাজনীতি পয়সা রোজগারের পথ’: সুকান্ত

দেবরাজ প্রসঙ্গে এ দিন তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “১৩০০ কোটির কথা শুনছি, যা আমার কল্পনারও বাইরে। তৃণমূল আমলে রাজনীতিকে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, যেন এটা শুধুমাত্র পয়সা রোজগারের পথ। তদন্তেই সব স্পষ্ট হবে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, দেবরাজ চক্রবর্তীর এই গ্রেফতারি কেবল একটি তোলাবাজি মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ‘ডিসি গ্লোবাল’-এর মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই ‘সাম্রাজ্যের’ শেকড় কতটা গভীরে এবং এর পেছনে আর কোন কোন রাঘববোয়াল রয়েছে, সেটাই এখন খুঁজে বের করতে মরিয়া তদন্তকারীরা।