
মুর্শিদাবাদ: প্রথম দফার ভোট মিটতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একদিকে আসানসোলে এক কংগ্রেস কর্মীকে খুনের অভিযোগ সামনে এসেছে, অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে কংগ্রেস (Adhir Chowdhury) সমর্থকের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, নির্বাচনের পরেও রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার পরিবেশ অব্যাহত রয়েছে।
পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য অভিনেতা দিগন্ত তৃণমূলের মঞ্চে কেন! প্রশ্ন শুভেন্দুর
শনিবার মধ্যরাতে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর (Adhir Chowdhury) পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে এই ঘটনা। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় কংগ্রেস সমর্থক কৃষ্ণ ঘোষের বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায়। সেই সময় বাড়ির ভিতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর বেধড়ক মারধর করে। এই ঘটনায় কৃষ্ণ ঘোষসহ তাঁর পরিবারের তিনজন সদস্য গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, তবে বর্তমানে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
প্রথম দফার ভোটের পরেই পালানোর চেষ্টা! মালদায় BSF র জালে ৩ বাংলাদেশি
আহত পরিবারের সদস্য দিয়া ঘোষ ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে জানান, “শনিবার রাত প্রায় দশটা নাগাদ আমি বাড়ি ফিরছিলাম। সেই সময় কয়েকজন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী আমাদের উদ্দেশে কটূক্তি করতে থাকে এবং পরে গায়ে হাত তোলে। আমরা আতঙ্কিত হয়ে বাড়িতে ফিরে আসি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা বাড়িতে এসে ভাঙচুর চালায় এবং আমাদের মারধর করে।” তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এই ঘটনার পাশাপাশি আসানসোলে এক কংগ্রেস কর্মীকে খুনের অভিযোগও রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ভোট মিটলেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এখনও রাজনৈতিক হিংসা থামছে না। সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তারা অভিযোগ করছে, প্রশাসন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
দ্বিতীয় দফায় বাগড়া দিতে পারে খোলা সীমান্ত! বনগাঁ থেকে আশঙ্কা আগরওয়ালের
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর (Adhir Chowdhury) মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাড়িতে অস্ত্র রাখুন, প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। একাংশের মতে, এই বক্তব্য পরিস্থিতির গুরুত্বকে তুলে ধরলেও, অন্যদিকে এটি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নও তুলছে।
অধীর চৌধুরীর দাবি, সাধারণ মানুষ যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তাহলে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার থাকা উচিত। তাঁর মতে, প্রশাসন যদি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মানুষকে নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নিজেরাই করতে হবে। তবে এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে।
শাসকদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উস্কে দিতে পারে। তারা দাবি করছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বার্তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, ধারাবাহিক হামলার ঘটনার পর মানুষের ক্ষোভেরই প্রতিফলন ঘটেছে অধীরের বক্তব্যে।

