শাহের মন্তব্যে উত্তপ্ত রাজনীতি, আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি মমতার

Mamata Banerjee কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। Amit Shah-এর মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে রাজ্যে।

By Suparna Parui

Published:

Updated:

Follow Us
Election Commission warning TMC

বাংলার বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ক্রমেই তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। ভোটের প্রচারে নেমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা একে অপরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করছেন। এই আবহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একাধিক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। চলতি নির্বাচনী পর্বে তিনি ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৫টিরও বেশি জনসভা করেছেন, আর প্রায় প্রতিটি সভাতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন।

বিশেষ করে শাহের একটি মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। (Mamata Banerjee) তিনি বারবার দাবি করছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূলের ‘গুন্ডা’ ও ‘সিন্ডিকেট’-এর সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি, একাধিক সভা থেকে তিনি বলেছেন, দোষীদের ‘উল্টো করে ঝুলিয়ে সিধা করে দেওয়া হবে’। এই ধরনের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এমন ভাষা ব্যবহার করা কতটা যুক্তিযুক্ত।

   

তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হচ্ছে, প্রকাশ্য জনসভা থেকে এই ধরনের মন্তব্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক শালীনতার সীমা লঙ্ঘনই নয়, বরং তা ভোটের পরিবেশকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাদের দাবি, এমন বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে ভয় এবং বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী শিবির জানতে চাইছে, কেন এই ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও সরব হয়েছেন। শনিবার এক নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি তাঁর দলের আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছেন, অমিত শাহের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে। তাঁর এই পদক্ষেপ স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এটি আইনি লড়াইয়ের রূপ নিতে পারে। অন্যদিকে, অমিত শাহ তাঁর মন্তব্যে অনড় রয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর এবং হাওড়ার শ্যামপুরে অনুষ্ঠিত সভা থেকেও তিনি একই ধরনের বক্তব্য রেখেছেন। মমতার প্রতিক্রিয়ার জবাব দিতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “গুন্ডাদের ভয় দেখাব না তো কি ওদের সঙ্গে কোলাকুলি করব?” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এই ভাষাকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন।

শ্যামপুরের সভা থেকে শাহ আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছেন কারণ তিনি ‘গুন্ডাদের ধমকাচ্ছেন’। তিনি মমতার উদ্দেশে বলেন, “আপনার গুন্ডাদের গ্যারেজে ঢুকিয়ে দিন। মা-বোনদের গায়ে হাত দিলে কাউকে ছাড়া হবে না।” তাঁর এই বক্তব্যে সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও বিরোধীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google