দ্বিতীয় দফায় বাগড়া দিতে পারে খোলা সীমান্ত! বনগাঁ থেকে আশঙ্কা আগরওয়ালের

কলকাতা: দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা (phase 2 election)আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। ভারত-বাংলাদেশ…

west-bengal-phase-2-election-security-manoj-agarwal-capf-bsf

কলকাতা: দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা (phase 2 election)আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বনগাঁ থেকে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন এবার কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়, প্রথম দফার অভিজ্ঞতা থেকেই নেওয়া হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকাগুলিতেও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। মনোজ আগরওয়াল জানান, মোট ৩৬টি খোলা সীমান্ত রয়েছে, যেখানে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ ইতিমধ্যেই একাধিক চেকপোস্ট তৈরি করেছে এবং যাতায়াতের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। যাতে অনুপ্রবেশ ইস্যু বড় সমস্যা না সৃষ্টি করে

   

মনোজ আগরওয়াল স্পষ্টভাবে বলেন, দ্বিতীয় দফার ভোট যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রথম দফায় যেখানে প্রায় ৪৫ হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল, সেখানে দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৪০ হাজার বাহিনী রাখা হচ্ছে। যদিও সংখ্যা কিছুটা কম, তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার আয়তন কম হওয়ায় নিরাপত্তায় কোনও ঘাটতি থাকবে না বলেই দাবি তাঁর।

আরও দেখুনঃ বিজেপি ক্ষমতায় এলে বন্ধ হবে ‘অভিষেক ট্যাক্স!’ প্রতিশ্রুতি হিমন্তর

বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতা, হাওড়া এবং নদিয়া জেলাগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই জেলাগুলিকে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করে নির্বাচন কমিশন আলাদা নজরদারির ব্যবস্থা করেছে। মনোজ আগরওয়াল জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যবেক্ষক (observer) নিয়োগ করা হয়েছে এবং কিছু পর্যবেক্ষককে রিজার্ভ হিসেবেও রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনও পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

প্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেই ঘটনার পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলেও জানান। পাশাপাশি তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “ভবিষ্যতে যদি কেউ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, দ্বিতীয় দফায় কোনওরকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।

ভোটগ্রহণের আগে প্রতিটি বুথ এলাকা পরিষ্কার করা হবে এবং সেখানে কোনওরকম ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক স্তরের চেকিং ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। মনোজ আগরওয়াল বলেন, “সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। আমরা চাই ভোটাররা নির্ভয়ে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় নির্বাচন কমিশন আগেভাগেই কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে প্রথম দফার কিছু অশান্তির ঘটনার পর দ্বিতীয় দফায় যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।