
কলকাতা: অবশেষে দিল্লি ছাড়লেন অভিষেক। সই জালিয়াতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার দুপুরেই কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেল ৪টে নাগাদ তাঁর দমদম বিমানবন্দরে নামার কথা। তবে কলকাতায় ফিরেই জিরো আওয়ারের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যাবে তাঁর জন্য। কারণ, হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই তাঁকে ভবানী ভবনে সিআইডি (CID) দফতরে হাজিরা দিতে হবে। আর কোনোভাবেই সময় পাবেন না তিনি। (Abhishek Banerjee has left Delhi for Kolkata)
১৪ দিনের লাইফলাইন, কিন্তু হাজিরায় নো-কম্প্রোমাইজ
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেকের সই জালিয়াতি মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়। আদালত অভিষেককে আগামী ১৪ দিনের জন্য গ্রেফতারির হাত থেকে আইনি ‘রক্ষাকবচ’ দিলেও, তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বিধানসভার সই জালিয়াতি কাণ্ডে অভিষেককে হাজিরার জন্য আর একটা দিনও সময় দেওয়া হবে না। এর আগে সিআইডি আধিকারিকরা তিন-তিনবার সমন নিয়ে কালীঘাটে মমতার বাড়ির দেওয়ালে নোটিস সাঁটানোর চেষ্টা করলেও, প্রতিবারই দিল্লি থাকার বা শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে হাজিরা এড়িয়েছিলেন অভিষেক। এবার আর সেই সুযোগ নেই।
‘কী উদ্ধত!’ অভিষেককে তুলোধোনা করে মমতাকে চরম বার্তা কল্যাণের
এদিকে আইনি লড়াইয়ের মাঝেই রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বড় বোমাটি ফাটিয়েছেন তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ তথা হেভিওয়েট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর সমস্ত মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ৪৫ বছর ওকালতি করা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক ভঙ্গিতে বলেন, “কী উদ্ধত রে বাবা! মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয় আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান। ওর জন্য দলটা শেষ হয়েছে। তার পরেও উদ্ধত ভাব যায়নি।”
জানা গিয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় কল্যাণের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে জানানো হয় যে অভিষেকের হয়ে অন্য আইনজীবী লড়বেন। অভিষেক শিবিরের এই অহংকারী আচরণ মেনে নিতে পারেননি কল্যাণ। বৃহস্পতিবার আদালতে অভিষেকের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য।
তিন দিনের দিল্লি সফর শেষ করে বুধবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় ফিরলেও অভিষেক দিল্লিতেই থেকে গিয়েছিলেন। কিন্তু আদালতের কড়া ডেডলাইনের পর এখন দেখার, বিকেল ৪টেয় কলকাতায় নেমে ঠিক সন্ধ্যা ৬টায় ভবানী ভবনে সিআইডির মুখোমুখি হন কি না অভিষেক, নাকি এই নাটকে অন্য কোনও মোড় আসে।

