লখনউ: চলতি সপ্তাহেই বাজেট পেশ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় (UP Budget)। তবে এই বাজেট নিয়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। কর্ম সংস্থান বা শিল্পে বিনিয়োগের বদলে ভাতা বাড়ান কিংবা মাদ্রাসা বোর্ডে বেশি টাকা বরাদ্দ করা এই ধরণের বিষয় নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছিল বিরোধীরা। আজ উত্তরপ্রদেশের বাজেট এই আগুনে ফের ঘি ঢেলে দিয়েছে।
প্রায় ৯.১২ লক্ষ কোটি টাকার এই বাজেটকে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের রূপরেখা হিসেবে তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার। বাজেট ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় কর্মসংস্থান বা শিল্প উদ্যোগে মন না দিলেও যোগী রাজ্য তা করে দেখাল।
আরও দেখুন: রক্তে ভীত গঙ্গাপাড়ের বাঙালি, কলকাতা দখলে যুদ্ধবিমান দরকার নেই: বাংলাদেশি মৌলানা
এই বাজেটের অন্যতম বড় ঘোষণা হলো বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা। শিল্প, পরিষেবা ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ সব ক্ষেত্রেই চাকরির সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ‘যুব উদ্যামী’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর এক লক্ষ নতুন মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজ গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এতে স্বনির্ভরতার পথে আরও এগিয়ে যাবে রাজ্যের যুব সমাজ।
প্রযুক্তি ও ডিজিটাল শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৪৯.৮৬ লক্ষ ট্যাবলেট ও স্মার্টফোন বিতরণ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এই প্রকল্পে আরও ২,৩৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে আরও বেশি ছাত্রছাত্রী ডিজিটাল সুবিধা পায়। পাশাপাশি রাজ্যে এআই মিশন চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। ৪৯টি আইটিআই-তে এআই ল্যাব তৈরি এবং একটি সাইবার সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে রাজ্যের যুবকদের প্রস্তুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রেও বাজেটে বড় ঘোষণা রয়েছে। ১৪টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ এবং তিনটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, এতে রাজ্যে উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ আরও বাড়বে। মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ দিতে স্কুটার দেওয়ার প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে দূরবর্তী এলাকার ছাত্রীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত সহজ হয়।
পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে। শহরের যানজট কমাতে নতুন বাইপাস, রিং রোড ও ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বারাণসী, অযোধ্যা, মথুরার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহরগুলিতে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে। এতে পর্যটন বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙা হবে বলে আশা করছে সরকার।
আইনশৃঙ্খলা ও যুব সমাজের উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে কোচিংয়ের ব্যবস্থা করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের ছাত্রছাত্রীরাও সুযোগ পায়।
সমগ্র বাজেটের মূল লক্ষ্য হিসেবে সরকার কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং সামাজিক উন্নয়নকে সামনে রেখেছে। বিরোধীরা অবশ্য বাজেটের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, তবে সরকার আশাবাদী যে এই বাজেট উত্তরপ্রদেশকে আগামী দিনে আরও দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।




















