বাবা হারিয়ে ভেঙে পড়লেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা, প্রয়াত উমেশচন্দ্র শুক্লা ! শোকে স্তব্ধ ক্রীড়ামহল

প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লার বাবা উমেশচন্দ্র শুক্লার প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রীড়াজগতে। শুক্রবার সকালে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us

প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লার বাবা উমেশচন্দ্র শুক্লার প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রীড়াজগতে। শুক্রবার সকালে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন উমেশচন্দ্রবাবু। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রায় পনেরো দিন আগে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা শুরু থেকেই তাঁর অবস্থাকে অত্যন্ত সংকটজনক বলে মনে করেছিলেন। জানা যায়, ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণের কারণে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। একসময় তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ভেন্টিলেশন থেকে সরানো হয়েছিল, কিন্তু সেই স্বস্তি ছিল খুবই ক্ষণস্থায়ী। রাতের মধ্যেই আবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসকদের বাধ্য হয়ে পুনরায় ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। চিকিৎসার মাঝেই তাঁর নিউমোনিয়াও ধরা পড়ে, যা তাঁর শারীরিক অবস্থাকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।

চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা শুক্লা পরিবার। বিশেষ করে ছেলে লক্ষ্মীরতন শুক্লা বাবার এই অকাল প্রস্থানে ভেঙে পড়েছেন। বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর এবং আবেগপূর্ণ। ক্রিকেটজীবনের শুরু থেকে সাফল্য-ব্যর্থতার প্রতিটি মুহূর্তে বাবার উৎসাহ ও সমর্থন পেয়েছেন তিনি। শুধু খেলোয়াড়ি জীবনেই নয়, পরবর্তীকালে রাজনৈতিক জীবনেও বাবার প্রেরণা তাঁর কাছে ছিল অমূল্য। বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে গভীর শোকে ভেঙে পড়েন লক্ষ্মীরতন। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কঠিন সময়ে পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে সমর্থন জোগাচ্ছেন।

   

উমেশচন্দ্রবাবুর মৃত্যু শুধুমাত্র একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, এটি এক আবেগঘন সম্পর্কের অবসান, যা বহু স্মৃতি ও ভালোবাসায় ভরা। তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে হাওড়ার সালকিয়ার বাঁধাঘাট শ্মশানে। ইতিমধ্যেই তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্রীড়ামহল জুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন সতীর্থ, ক্রীড়া সংগঠক এবং বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা শোকপ্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।সোশ্যাল মিডিয়াতেও লক্ষ্মীরতনের অসংখ্য অনুরাগী তাঁর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। অনেকেই এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং উমেশচন্দ্রবাবুর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। তাঁর প্রয়াণে একদিকে যেমন একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তেমনি ক্রীড়াজগতও হারাল এক নীরব অনুপ্রেরণার উৎসকে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google