নয়াদিল্লি: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কোনও নথির জেরক্স বা (Supreme Court)ফটোকপি নিজে থেকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এটিকে ‘সেকেন্ডারি এভিডেন্স’ বা গৌণ প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়, এবং এর গ্রহণযোগ্যতা শুধুমাত্র ইন্ডিয়ান এভিডেন্স অ্যাক্টের সেকশন ৬৫-এর কঠোর শর্ত পূরণ হলেই সম্ভব।
এই রায়ে আদালত একটি সম্পত্তি বিক্রির ঘটনায় ফটোকপি পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির ভিত্তিতে হওয়া বিক্রি বাতিল করে দিয়েছে, যা আইনি মহলে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।রায়টি জাস্টিস পঙ্কজ মিথাল এবং এসভিএন ভাট্টির বেঞ্চের। মামলায় দেখা গেছে, ১৯৯৮ সালের একটি পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির ফটোকপির ভিত্তিতে সম্পত্তি বিক্রি করা হয়েছিল।
আরও দেখুন: পাকিস্তানকে চমকে দিয়ে চন্দ্রভাগায় নয়া প্রকল্প মোদীর
কিন্তু আদালত বলেছে, অরিজিনাল নথি না থাকলে বা তার অনুপস্থিতির কারণ না দেখালে এমন ফটোকপি কোনও প্রমাণের মূল্য বহন করে না। সেকশন ৬৪ অনুসারে সাধারণত অরিজিনাল ডকুমেন্টই প্রাইমারি এভিডেন্স। সেকশন ৬৫-এ বলা আছে, গৌণ প্রমাণ (যেমন কপি, মৌখিক বিবরণ) তখনই গ্রহণ করা যাবে যদি অরিজিনাল উপস্থাপন করা সম্ভব না হয় এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত পূরণ হয়।
সেকশন ৬৫-এর প্রধান শর্তগুলো হলো:অরিজিনাল নথি প্রতিপক্ষের কাছে বা কোনও এমন ব্যক্তির কাছে আছে যার কাছ থেকে আদালতের প্রক্রিয়ায় তা আনা যায় না, এবং সেকশন ৬৬ অনুসারে নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও তা উপস্থাপন করা হয়নি। অরিজিনাল নথি হারিয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে, এবং তা প্রমাণকারীর নিজের দোষ বা অবহেলার কারণে নয়। অরিজিনাল নথি এমন যা সহজে সরানো যায় না (যেমন বড় ম্যাপ বা রেকর্ড)। অরিজিনাল পাবলিক ডকুমেন্ট হলে সার্টিফায়েড কপি গ্রহণযোগ্য।
আদালত বলেছে, এই শর্তগুলো না মানলে সেকেন্ডারি এভিডেন্স অগ্রাহ্য। ফটোকপি শুধুমাত্র তখনই বিবেচনায় নেওয়া যাবে যদি অরিজিনালের অস্তিত্ব ও অনুপস্থিতির কারণ প্রথমে প্রমাণ করা হয়। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, “একটি ডকুমেন্টের ফটোকপি কোনও প্রমাণ নয় যতক্ষণ না সেকশন ৬৫-এর প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা প্রমাণ করা হয়।”
এতে করে অনেক পুরনো মামলায় ফটোকপির উপর নির্ভর করে দেওয়া রায়গুলো প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।এই রায়ের প্রভাব অনেক বড়। সম্পত্তি বিরোধ, উইল, চুক্তি, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি এসব ক্ষেত্রে এখন থেকে অরিজিনাল নথি না থাকলে তার অনুপস্থিতির কারণ বিস্তারিত প্রমাণ করতে হবে। না হলে ফটোকপি বা জেরক্স কপি আদালতে কোনও কাজে আসবে না। আইনজীবীরা বলছেন, এতে মামলার প্রমাণের মান আরও কঠোর হবে, জালিয়াতি কমবে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য নথি সংরক্ষণের গুরুত্ব বাড়বে। অনেকে তো মনে করেন, এখন থেকে অরিজিনাল ডকুমেন্ট ছাড়া মামলা লড়া আরও কঠিন হয়ে যাবে।




















