পাকিস্তানকে চমকে দিয়ে চন্দ্রভাগায় নয়া প্রকল্প মোদীর

নয়াদিল্লি: মোদী সরকার চন্দ্রভাগা নদীর উপর মেগা সাওয়ালকোট হাইড্রোইলেকট্রিক প্রকল্পের (Hydropower Project)কাজ শুরু করেছে, যা ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটির সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি স্থগিত রাখার পর প্রথম বড় ধরনের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Updated:

Follow Us
india-sawalkote-hydropower-project-chenab-indus-treaty-pakistan

নয়াদিল্লি: মোদী সরকার চন্দ্রভাগা নদীর উপর মেগা সাওয়ালকোট হাইড্রোইলেকট্রিক প্রকল্পের (Hydropower Project)কাজ শুরু করেছে, যা ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটির সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি স্থগিত রাখার পর প্রথম বড় ধরনের হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প। এই পদক্ষেপ ভারতের জলসম্পদ নিয়ে নীতিতে একটা স্পষ্ট ও কঠোর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে যেখানে আগের সংযমের জায়গায় এখন সম্পদের দৃঢ় দাবি ও ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এনএইচপিসি (ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন)-এর নথি অনুসারে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি এই প্রকল্পের জন্য টেন্ডার ডাকা হয়েছে। প্রকল্পটির নাম সাওয়ালকোট হাইড্রোইলেকট্রিক প্রজেক্ট, যার মোট ক্ষমতা ১,৮৫৬ মেগাওয়াট। এটি দুটি পর্যায়ে তৈরি হবে প্রথম পর্যায়ে ১,৪০৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৫০ মেগাওয়াট।

   

আরও দেখুন: শুরুতেই বিপত্তি, দিলীপ ঘোষ উঠতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল সভামঞ্চ

এটি একটি রান-অফ-দ্য-রিভার প্রকল্প, অর্থাৎ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের উপর নির্ভর করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, কোনো বড় জলাধার তৈরি করে জল জমা করা হবে না। প্রকল্পটি জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুর ও রামবান জেলায় অবস্থিত। বাগলিহার প্রকল্পের উজানে এবং সালাল প্রকল্পের নিচে চন্দ্রভাগা নদীর এই অংশে এটি নির্মিত হবে।প্রকল্পের মোট খরচ প্রায় ৫,১২৯ কোটি টাকা।

এনএইচপিসি-র নথিতে বলা হয়েছে, নির্মাণকাজ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ করার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। নির্মাণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে যেমন, ভূগর্ভস্থ কাজের জন্য বছরে ১২ মাসের কাজের সুযোগ রাখা হয়েছে। পৃষ্ঠের কাজগুলো অ-মৌসুমে পুরোদমে চলবে এবং বর্ষাকালে অর্ধেক গতিতে। এতে করে আগের মতো ঋতুনির্ভর কোনো স্থবিরতা থাকবে না, কাজ অব্যাহত রাখা যাবে।

এই প্রকল্পটি পরিবেশ মন্ত্রকের এক্সপার্ট কমিটির দ্বারা গত অক্টোবর মাসে অনুমোদিত হয়েছে, ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটি স্থগিত হওয়ার পর এটিই প্রথম বড় ছাড়পত্র।ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটি ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যাতে চন্দ্রভাগা, জেলাম ও সিন্ধু নদীর পশ্চিমী নদীগুলোর উপর পাকিস্তানের অধিকার বেশি ছিল, আর ভারতের পূর্বী নদীগুলোর উপর।

কিন্তু গত কয়েক বছরে সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর ইস্যু এবং পাকিস্তানের বারবার আপত্তির কারণে ভারত এই চুক্তিকে স্থগিত রেখেছে। এর ফলে ভারত এখন পশ্চিমী নদীগুলোর উপর নিজের হাইড্রোপাওয়ার সম্ভাবনা পুরোদমে কাজে লাগাতে পারছে। সাওয়ালকোট প্রকল্প এর প্রথম বড় উদাহরণ। এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নয়, বরং কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।

চন্দ্রভাগা নদীর উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর মাধ্যমে ভারত তার জলসম্পদের উপর আরও দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছে।এই প্রকল্প নিয়ে পাকিস্তানের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছে, এতে তাদের জলের প্রবাহ কমতে পারে, যদিও এটি রান-অফ-দ্য-রিভার হওয়ায় জল জমা করে রাখা হবে না। তবু চুক্তি স্থগিত থাকায় ভারতের এই পদক্ষেপকে তারা চাপের অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি জাতীয় নিরাপত্তা, শক্তি স্বনির্ভরতা এবং জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে প্রায় ৯ বছর লাগতে পারে, কিন্তু সরকারের তরফে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google