বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ভারতীয় ক্রিকেটে আলোড়ন ফেলে চলেছেন বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi)। এবার তিনি এমন একটি কীর্তি গড়লেন, যা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করল। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ব্যাটিং করে মাত্র ২৯ বলে ৯৪ রান করেন এই তরুণ ব্যাটার। শতরান থেকে মাত্র ছয় রান দূরে থেমে গেলেও তাঁর ইনিংস ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বৈভব ছিলেন আগ্রাসী মেজাজে। প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর কোনও রকম চাপ নিতে রাজি ছিলেন না তিনি। প্রথম থেকেই বড় শট খেলার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামেন এবং সেই পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেন। তাঁর ব্যাট থেকে একের পর এক চার ও ছক্কা বেরোতে থাকে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ম্যাচের রাশ ভারতের হাতে চলে আসে।
এই ইনিংসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তাঁর অর্ধশতরান পূরণের গতি। মাত্র ১১ বলে ৫০ রান পূর্ণ করে বৈভব লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম অর্ধশতরানের বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। এর আগে এই রেকর্ড ছিল শ্রীলঙ্কার কৌশল্য বীরারত্নের দখলে। তিনি ২০০৫-০৬ মরসুমে ১২ বলে অর্ধশতরান করেছিলেন। দীর্ঘ দুই দশক ধরে অটুট থাকা সেই নজির ভেঙে দিলেন বিহারের এই কিশোর ক্রিকেটার।
অর্ধশতরানের পথে বৈভবের ব্যাটিং ছিল অবিশ্বাস্য। প্রথম ১১ বলে তিনি করেন ৫০ রান। সেই ১১ বলের মধ্যে মাত্র একটি বল ডট ছিল। বাকি ১০ বলে তিনি হাঁকান পাঁচটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। তাঁর রান সংগ্রহের ধারাবাহিকতা ছিল— ৪, ৪, ৪, ৬, ৬, ০, ৬, ৪, ৪, ৬, ৬। অর্থাৎ প্রায় প্রতিটি বলই বাউন্ডারির বাইরে বা সীমানারেখা ছুঁয়ে গিয়েছে। বাঁহাতি স্পিনার দুলাজ সমুদিতাকে ছক্কা মেরে তিনি নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন এবং একই সঙ্গে নতুন বিশ্বরেকর্ডের মালিক হন।
বৈভবের এই কীর্তির ফলে দ্রুততম অর্ধশতরানের তালিকায় পিছিয়ে গিয়েছেন আরও এক শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার নারাঙ্গদা লিয়ানাড়াচ্ছিগে থিসারা চিরন্ত পেরেরা। তিনি ২০২০-২১ মরসুমে ১৩ বলে অর্ধশতরান করেছিলেন। এখন সেই তালিকায় বৈভব প্রথম স্থানে, বীরারত্নে দ্বিতীয় এবং পেরেরা তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।
কয়েক দিন আগেই অন্য একটি কারণে আলোচনায় এসেছিলেন বৈভব। তবে মাঠে নেমে তিনি দেখিয়ে দিলেন, তাঁর আসল পরিচয় ব্যাট হাতে। বয়স মাত্র ১৫ হলেও তাঁর আত্মবিশ্বাস, শট নির্বাচন এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার ক্ষমতা অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সঙ্গে তুলনীয়। ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম বড় সম্পদ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা যে তাঁর মধ্যে রয়েছে, এই ইনিংস তারই আরেকটি প্রমাণ।
ডাম্বুলার মাঠে খেলা এই ২৯ বলে ৯৪ রানের ঝড়ো ইনিংস শুধু একটি ম্যাচ জেতানোর পারফরম্যান্স নয়, বরং ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেওয়া এক অসাধারণ অধ্যায়। বৈভব সূর্যবংশীর এই রেকর্ড আগামী দিনে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।



