হিসেবে গড়বড়! রাম মন্দিরের ভক্তদের দানে বড়সড় রদবদল

অযোধ্যা: অযোধ্যার ঐতিহাসিক রাম মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামছে প্রতিদিন। (Ram Mandir)কিন্তু সাম্প্রতিক দান-দক্ষিণা নিয়ে উঠে আসা বিতর্কের পর মন্দিরের সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের রদবদলের প্রস্তুতি…

ram-mandir-donation-reforms

অযোধ্যা: অযোধ্যার ঐতিহাসিক রাম মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামছে প্রতিদিন। (Ram Mandir)কিন্তু সাম্প্রতিক দান-দক্ষিণা নিয়ে উঠে আসা বিতর্কের পর মন্দিরের সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের রদবদলের প্রস্তুতি চলছে। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টে অফারিংস (ভক্তদের দান) গণনা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং দর্শন অপারেশনগুলোকে পুনর্গঠিত করা হতে পারে।

সব দায়িত্ব ও ভূমিকা লিখিত প্রোটোকলের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।রাম জন্মভূমি টেম্পল কনস্ট্রাকশন কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় বেশিরভাগ কাজ স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্ভরশীল। লিখিত নির্দেশিকা ও স্পষ্ট দায়িত্ববিভাগের অভাবে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ভক্তদের বিশ্বাস যাতে কোনোভাবেই আঘাত না পায়, সেজন্য পেশাদার ব্যবস্থাপনা দরকার।”

   

আরও দেখুনঃ মহরমের আগেই গেরুয়া রাজ্যে হিন্দু দলিতদের উপর মুসলিম অত্যাচারে বাড়ল উত্তেজনা

ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, দান গণনা প্রক্রিয়া, সম্পদের হিসাব-নিকাশ এবং দর্শন ব্যবস্থাপনায় নতুন করে সংগঠিত করা হবে।বর্তমানে মন্দির চত্বরে একাধিক হুন্ডি রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত নগদ টাকা, সোনা-রুপা ও অন্যান্য দান রাখেন। এই দান গণনার দায়িত্ব ছিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ওপর, যা পরে বেসরকারি সংস্থাকে আউটসোর্স করা হয়েছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক অভিযোগ উঠেছে যে, এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। উত্তরপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি) গঠন করেছে। এসআইটি দানের হিসাব যাচাই করছে।স্থানীয় এক ভক্ত আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমরা যা দান করি, তা রাম লাল্লার সেবায় লাগুক। কোনো অনিয়ম হলে মন ভেঙে যায়।” আরেকজন বলেন, “মন্দির তো শুধু পাথরের নয়, বিশ্বাসের জায়গা।

সবকিছু যেন একদম স্বচ্ছ হয়।” এই অনুভূতি হাজারো ভক্তের।নৃপেন্দ্র মিশ্রের মতে, ট্রাস্টে প্রায় ১,৫০০ জনের মতো মানুষ বিভিন্ন কাজে যুক্ত। এখন পর্যন্ত অনেক কিছুই অনানুষ্ঠানিকভাবে চলছিল। নতুন পুনর্গঠনে চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) নিয়োগ, ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম, স্বাধীন অডিট এবং লিখিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে।

দর্শন ব্যবস্থাপনায় ভি আই পি ও সাধারণ ভক্তদের জন্য আরও সুসংগঠিত সময়সূচি, ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট এবং সিকিউরিটি প্রোটোকল জোরদার করা হবে।ট্রাস্ট সূত্রে জানা গেছে, তারা পুরোপুরি স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং এসআইটিকে সব ধরনের সহযোগিতা করছে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

অনেকে তিরুপতি মন্দিরের মতো পেশাদার মডেল অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন।এই পুনর্গঠন শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, ভক্তদের আস্থা ফিরিয়ে আনারও প্রয়াস। রাম মন্দির আজ শুধু অযোধ্যার নয়, পুরো দেশের আধ্যাত্মিক প্রতীক। লক্ষ লক্ষ ভক্তের কষ্টার্জিত অর্থ যাতে সঠিকভাবে রামের সেবায় লাগে, সেজন্য এই উদ্যোগকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন।